Saturday, November 7

নোয়াখালীর বামনী নদীতে মাত্র ৫০ দিনে ক্লোজার বাঁধ নির্মাণে সফলতার দাবি করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সংশ্লিষ্টদের আশা, এর ফলে কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা এবং পানি নিষ্কাশন সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।

পাউবোর ‘নোয়াখালী জেলার বামনী নদী অববাহিকার বন্যা ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় বাঁধটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৯ লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন এবং প্রায় ২৮০ কোটি টাকার সম্পদ সুরক্ষিত থাকবে।

পাউবো সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে বামনী নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার সমস্যা দেখা দেয়। এর আগে নদীতে ১৯-ভেন্টবিশিষ্ট একটি রেগুলেটর নির্মাণ করা হলেও ক্লোজার বাঁধ না থাকায় জোয়ারের পানি প্রবেশ বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। ফলে উঁচু জোয়ারে ঘরবাড়ি, সড়ক ও কৃষিজমি প্লাবিত হতো।

প্রকল্পটির প্রধান লক্ষ্য হলো জলাবদ্ধতা দূর করা, লবণাক্ত পানির প্রবেশ রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অবকাঠামো রক্ষা করা। পুরো প্রকল্পের কাজ ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

ক্লোজার বাঁধটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪১৫ মিটার এবং গভীরতা ১০ মিটার। গত ১০ মার্চ পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু যৌথভাবে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরপরই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (পিডিএল) ও পাউবো যৌথভাবে কাজ শুরু করে। প্রতিকূল আবহাওয়া, ভারী বৃষ্টি এবং তীব্র জোয়ার-ভাটার মধ্যেও দিনরাত কাজ চালিয়ে মাত্র ৫০ দিনের মধ্যে বাঁধের মূল কাঠামোর কাজ প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জিও ব্যাগ, জিওটিউব ও জিও টেক্সটাইল শিট সরবরাহের মাধ্যমে আরএফএল জিও টেক্সটাইল নির্মাণকাজে সহায়তা করেছে। পিডিএল, পাউবো এবং শ্রমিকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দ্রুত অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, নদীভাঙনে তাঁরা বহুবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্লোজার বাঁধ নির্মাণের ফলে মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে এবং জোয়ারের পানি ও ভাঙনের আতঙ্ক কমবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

পাউবো নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী রেফাত জামিল বলেন, কিছু প্রশাসনিক কারণে প্রকল্পে বিলম্ব হলেও জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

পিডিএলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, প্রকল্পটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হলেও মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে প্রতিকূল পরিবেশেও কাজ চালিয়ে যাওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুরো প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

Leave A Reply


Math Captcha
21 + = 25