Saturday, November 7

ভারতে কথিত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হওয়ায় শত শত মানুষ এখন আটককেন্দ্র ও সীমান্তবর্তী এলাকায় অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট সীমান্ত এলাকায় কথিত অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা বেড়েছে।

প্রশাসনিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, বসিরহাটের বিথারী-হাকিমপুর পঞ্চায়েত এলাকার হাকিমপুর চেকপোস্টে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৮২ জন কথিত বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছিল। একই সময়ে বাদুড়িয়া ও স্বরূপনগরের তিনটি ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটককেন্দ্রে মোট ৪৭১ জনকে রাখা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিদের বেশির ভাগই শ্রমজীবী মানুষ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, তাঁরা বিভিন্ন সময়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং পরে কাজের সন্ধানে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েন।

বর্তমানে আটক ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাইয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। বিএসএফ সদস্যরা তাঁদের আঙুলের ছাপসহ বিভিন্ন বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করছেন। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার আগে কাউকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে না।

প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, আটককেন্দ্রে থাকা নারী, পুরুষ ও শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, খাবার ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

ভারতে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সীমান্তে কথিত অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এ বিষয়ে রাজনৈতিক তৎপরতাও বেড়েছে। বাংলাদেশ সীমান্তজুড়ে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যে সীমান্ত এলাকায় উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে। বিশেষ করে আটক ব্যক্তিদের ভবিষ্যৎ এবং তাঁদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
− 2 = 4