Saturday, November 7

বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও অন্যান্য অবকাঠামোগত কার্যক্রমে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকার দাবি, সীমান্তের ৬৮টি স্থানে নির্মিত বেড়ায় বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও বিচ্যুতি রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নতুন ৮৬টি স্থানে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু করা যাবে না।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের কাছে পাঠানো বার্তায় জানিয়েছে, সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজের মধ্যে বাংলাদেশের অনুমতি ছাড়াই ভারত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

এর মধ্যে রয়েছে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার, সীমান্ত পোস্ট ও স্থাপনা নির্মাণ, সেতু, কালভার্ট ও বাঁধ নির্মাণ এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক অবকাঠামো স্থাপন।

বাংলাদেশের মতে, এসব কার্যক্রম ১৯৭৫ সালের বাংলাদেশ–ভারত সীমান্ত নির্দেশিকা এবং বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বাংলাদেশের হিসাব অনুযায়ী, ৩৯টি স্থানে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা, ৩৩টি স্থানে সড়ক নির্মাণ বা মেরামত, ২৭টি স্থানে পোস্ট বা স্থাপনা নির্মাণ, ২০টি স্থানে সেতু, কালভার্ট বা বাঁধ নির্মাণ এবং ১৮টি স্থানে অন্যান্য অবকাঠামোগত কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। একই স্থানে একাধিক ধরনের কার্যক্রমও হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের অভিযোগ, কয়েকটি স্থানে নির্ধারিত নকশা অনুসরণ না করে ঢালাই করা তারের জাল ও বুলেটপ্রুফ কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া শূন্যরেখার কাছাকাছি অযৌক্তিকভাবে বেড়া স্থাপন, অনুমোদন ছাড়া টহল চৌকি, সিসিটিভি ক্যামেরা, সার্চলাইট ও প্রবেশদ্বার নির্মাণ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে ঢাকা।

বাংলাদেশ বলেছে, সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজের মধ্যে কোনো সশস্ত্র সদস্য থাকার কথা নয়। কিন্তু অনেক স্থানে বেড়ার ভেতরে সশস্ত্র বিএসএফ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। ঢাকা এই উপস্থিতি বন্ধ করারও দাবি জানিয়েছে।

বর্তমানে দিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক চলছে। সীমান্তে কথিত ‘পুশ ইন’ বা জোরপূর্বক লোক পাঠানোর বিষয়টি বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য বিষয়। বাংলাদেশ একে অবৈধ, মানবাধিকারবিরোধী ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছে।

অন্যদিকে ভারতের অবস্থান হলো, তাদের আইন ও বিদ্যমান প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই অবৈধ বিদেশিদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

বাংলাদেশের দাবি, গত মঙ্গলবার রাতে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর সীমান্ত দিয়ে আবারও লোকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। তবে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবীর বলেছেন, সীমান্তে চলমান উত্তেজনা কমিয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে দুই দেশেরই উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় কাঠামো ও আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান খোঁজা উচিত।

Leave A Reply


Math Captcha
22 − = 20