আইসল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। বাছাইপর্ব, কোপা আমেরিকা এবং প্রস্তুতি ম্যাচে ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে এবারও শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে দলটি।
২০২১ সালে কোপা আমেরিকা ২০২১ জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার সাফল্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। এরপর ফিনালিসিমা ২০২২ জয়ের পর ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ-এ শিরোপা জিতে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করেন লিওনেল মেসি।
বিশ্বকাপ জয়ের পরও থেমে থাকেনি আর্জেন্টিনা। ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ১৮ ম্যাচে ১২ জয়, ২ ড্র ও ৪ হারে ৩৮ পয়েন্ট সংগ্রহ করে শীর্ষস্থান অর্জন করে দলটি। দুই লেগেই তারা হারিয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে।
এছাড়া কোপা আমেরিকা ২০২৪-এও অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। ফাইনালে কলম্বিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে ট্রফি ঘরে তোলে দলটি।
বর্তমান আর্জেন্টিনা দলে এখনো ভরসার প্রতীক হয়ে আছেন লিওনেল মেসি। তার সঙ্গে রয়েছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, নিকোলাস ওতামেন্দি, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, রদ্রিগো দি পল এবং হুলিয়ান আলভারেজদের মতো অভিজ্ঞ তারকারা।
একই সঙ্গে তরুণদেরও সুযোগ দিয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। দলে রয়েছেন ভ্যালেন্তিন বারকো, গিওলিয়ানো সিমিওনে, ফাকুন্দো মেদিনা এবং নিকো পাজ।
সাম্প্রতিক দুই প্রস্তুতি ম্যাচেও দারুণ ছন্দে ছিল আলবিসেলেস্তেরা। প্রথমে হন্ডুরাসকে ২-০ গোলে এবং পরে আইসল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে তারা।
বিশেষ করে আইসল্যান্ড ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে আবারও নিজের প্রভাব দেখিয়েছেন মেসি। মাঠে নামার পর দ্রুত গোল করে এবং আরেকটি গোলের সুযোগ তৈরি করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
তবে সবকিছুর পরও আর্জেন্টিনার কিছু দুশ্চিন্তা রয়েছে। দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের বয়স বেড়েছে এবং আক্রমণভাগে এখনো অনেকটাই মেসিনির্ভর দলটি। দ্রুতগতির ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে এটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তবুও অভিজ্ঞতা, দলীয় ঐক্য, স্কালোনির কৌশল এবং মেসির উপস্থিতি—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত আর্জেন্টিনা।

