ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা রাজনীতি থেকে অবসরের গুঞ্জন নাকচ করে বলেছেন, দলের নেতাকর্মীদের বর্তমান পরিস্থিতিতে রেখে তিনি বিশ্রামে যেতে পারেন না।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের তরুণ নেতৃত্ব গড়ে তুলে এবং দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হওয়ার পরই তিনি অবসরের কথা ভাববেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। সে সময় তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছিলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলির কারণে শেখ হাসিনা রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরপর থেকেই দলটির নেতৃত্ব পুনর্গঠন নিয়ে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, “এমন একটা সময়ে আমি কীভাবে বলি, বিশ্রামে যাচ্ছি?” তিনি দাবি করেন, দেশে গণতন্ত্র আক্রান্ত এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক দল এবং কাউন্সিলের মাধ্যমে কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে।
তবে তিনি স্বীকার করেন যে দলটি বর্তমানে একটি “প্রাকৃতিক শুদ্ধিকরণ” প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
দেশে ফেরার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, “জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার গর্ব নিয়ে এবং দেশ পুনর্গঠনের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ফিরব।”
উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলায় তার বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার ভারতের কাছে কূটনৈতিক যোগাযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন সময়ে দাবি করেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন।

