Saturday, November 7

হবিগঞ্জ, ৮ জুন: হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৮ জুন) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর সময় বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা Farid Ahmad গ্রেপ্তার হন। তার অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন প্যানেল চেয়ারম্যান ও যুবদল নেতা Mizanur Rahman Kapil।

সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর ফরিদ আহমদ পুনরায় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের উদ্যোগ নিলে মিজানুর রহমান কপিল এতে আপত্তি জানান। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

সোমবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদে সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ উপস্থিত হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

একপর্যায়ে ফরিদ আহমদ ও মিজানুর রহমান কপিলের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে উভয় পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

খবর পেয়ে বানিয়াচং থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করলে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

আহতদের উদ্ধার করে Habiganj Sadar Modern Hospitalসহ আশপাশের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা Sheikh Nazmul Haque বলেন, চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানের মধ্যকার পূর্ব বিরোধের জেরেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে।

তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৫টি সাউন্ড গ্রেনেড ও ৩টি টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
− 1 = 6