Saturday, November 7

খুচরা পর্যায়ে ১৫–২০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা; আপাতত অপরিবর্তিত থাকছে লাইফ লাইন সুবিধা

ঢাকা: ঈদুল আজহার পরপরই বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য আসতে পারে বাড়তি খরচের চাপ। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আজ বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার ঘোষণা করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। তবে স্বল্প আয়ের গ্রাহকদের জন্য চালু থাকা ‘লাইফ লাইন’ সুবিধায় আপাতত কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।

বিইআরসির একটি সূত্র জানিয়েছে, বুধবার সকাল ১১টায় কমিশনের কারিগরি কমিটির বৈঠকে মূল্যবৃদ্ধির হার চূড়ান্ত করা হবে। এরপর বিকেলে নতুন ট্যারিফ ঘোষণা করা হতে পারে। নতুন মূল্যহার ১ জুন থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পূরণ এবং বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ কমানোর লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে মন্ত্রিসভা কমিটি ইউনিটপ্রতি ১ থেকে ১.৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, ডলারের উচ্চ বিনিময় হার এবং এলএনজি, কয়লা ও তেল আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সরকারের ভর্তুকির চাপও বাড়ছে।

বিইআরসির গণশুনানিতে বিভিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ইউনিটপ্রতি ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়। পরে কমিশনের কারিগরি দল গড়ে ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ২৫ পয়সা বৃদ্ধির সুপারিশ করে।

সূত্র জানায়, ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের জন্য তুলনামূলক কম হারে মূল্যবৃদ্ধি করা হতে পারে। এর বেশি ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে মূল্যবৃদ্ধির হার বাড়তে পারে। এ পদক্ষেপের মাধ্যমে বছরে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে।

তবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন ভোক্তা অধিকারকর্মী, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষক ও শিল্পমালিকরা। তাদের মতে, বিদ্যুৎ খাতের অদক্ষতা, সিস্টেম লস ও দুর্নীতির দায় সাধারণ গ্রাহকদের ওপর চাপানো হচ্ছে।

ভোক্তা সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, বিদ্যুতের দাম বাড়লে শুধু বিদ্যুৎ বিলই নয়, শিল্প উৎপাদন, পরিবহন, সেচব্যবস্থা ও নিত্যপণ্যের বাজারেও এর প্রভাব পড়বে। এতে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাবে।

বিইআরসি জানিয়েছে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় লাইফ লাইন গ্রাহকদের জন্য বিদ্যমান সুবিধা বহাল রাখা হবে। তবে বিদ্যুৎ খাতের ক্রমবর্ধমান লোকসান মোকাবিলায় মূল্য সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 31 = 38