Saturday, November 7

ঢাকা: মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব ব্যক্তিগত ও ব্যাপক ব্যবহৃত যানবাহনের ওপর কোনো ধরনের নতুন কর আরোপ করা হবে না।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ এড়াতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই নির্দেশনা দিয়েছেন।

এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে অগ্রিম আয়করের আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রস্তাবটি প্রকাশের পর মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।

মোটরসাইকেল চালকদের দাবি ছিল, মোটরসাইকেল এখন শুধু শখের বাহন নয়; এটি অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং রাইড শেয়ারিং চালকদের গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত মাধ্যম। বিদ্যমান নিবন্ধন ফি, রোড ট্যাক্স, ফিটনেস ও অন্যান্য খরচের পাশাপাশি নতুন কর আরোপ হলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতো।

সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে ১১১-১২৫ সিসি মোটরসাইকেলে বছরে ২ হাজার টাকা, ১২৬-১৬৫ সিসিতে ৫ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেলে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর নির্ধারণের প্রস্তাব ছিল। পরে হার কমানোর চিন্তা করা হলেও শেষ পর্যন্ত পুরো পরিকল্পনাই বাতিল করা হয়েছে।

তবে ১৫০ সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেলের মালিকদের করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নেওয়ার বাধ্যবাধকতা বহাল থাকবে।

একই সঙ্গে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ওপর প্রস্তাবিত করও বাতিল করা হয়েছে। আগে সিটি করপোরেশন এলাকায় বছরে ৫ হাজার টাকা, পৌরসভা এলাকায় ২ হাজার টাকা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ১ হাজার টাকা কর নির্ধারণের প্রস্তাব ছিল।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৪৮ লাখ ৭১ হাজার। অন্যদিকে খাতসংশ্লিষ্টদের দাবি, দেশে অন্তত ৫০ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কর আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় মোটরসাইকেল শিল্প, রাইড শেয়ারিং খাত এবং সাধারণ ব্যবহারকারীরা স্বস্তি পাবেন।

Leave A Reply


Math Captcha
4 + 2 =