Saturday, November 7

ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন শিশুটির বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা এবং মা পারভীন আক্তার। সাক্ষ্য দেওয়ার সময় দুজনই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। সাক্ষ্য দিতে গিয়ে রামিসার বাবা-মা ঘটনার দিনের বিভীষিকাময় মুহূর্তগুলো তুলে ধরেন।

আব্দুল হান্নান মোল্লা আদালতে জানান, ঘটনার দিন অফিসে থাকা অবস্থায় স্ত্রী ফোন করে রামিসাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান। দ্রুত বাসায় ফিরে এসে তিনি দেখেন, প্রতিবেশীরা আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্নার ফ্ল্যাটের সামনে জড়ো হয়েছেন। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতরে তার কাটা মাথা দেখতে পান। সেই দৃশ্য দেখে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন বলে আদালতকে জানান।

অন্যদিকে রামিসার মা পারভীন আক্তার বলেন, মেয়েকে না পেয়ে তিনি প্রথমে পুরো ভবনে খোঁজাখুঁজি করেন। একপর্যায়ে পাশের ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার একটি জুতা দেখতে পান। এরপর বারবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভাঙা হয়। ভেতরে প্রবেশ করে রক্তাক্ত দৃশ্য এবং মেয়ের মরদেহ দেখতে পান তিনি।

এরপর আদালত শিশু হওয়ায় রামিসার বড় বোন রাইসা আক্তারের সাক্ষ্য ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে গ্রহণ করেন।

মামলায় আজ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের কথা রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক, ম্যাজিস্ট্রেট, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীতে রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করে। গত ২ জুন আদালত তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের মোট ১৮ জন সাক্ষী রয়েছেন।

Leave A Reply


Math Captcha
8 + 1 =