Saturday, November 7

ঢাকার পল্লবীতে ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আগে আদালতের বাইরে আসামির দেওয়া বক্তব্য প্রচার না করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

মামলার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু আদালতে বলেন, আইন অনুযায়ী বিচারকের সামনে ছাড়া পুলিশ হেফাজতে থাকা কোনো আসামির বক্তব্য দেওয়ার এখতিয়ার নেই। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশি হেফাজতে থাকা বা দণ্ডিত আসামিদের বক্তব্য প্রচার করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং জনমত প্রভাবিত হওয়া ঠেকাতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার আবেদন জানান তিনি। পরে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এদিন সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দির মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। পরে সাক্ষ্য দেন রামিসার মা পারভীন আক্তার। রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী তাদের জেরা করেন। এরপর ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে রামিসার বড় বোনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রতিবেশীরাও সাক্ষ্য দেবেন।

সকাল পৌনে ৯টায় প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে তাদের আদালতে হাজির করা হয়।

এর আগে ১ জুন আদালত সোহেল ও স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই দিন মামলার ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ মোট ১৭ জনকে সাক্ষী করেছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যান আসামি স্বপ্না। পরে পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করেন। ঘটনার পর স্বপ্নাকে আটক করা হয় এবং পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ঘটনার পরদিন ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

Leave A Reply


Math Captcha
66 + = 72