কুষ্টিয়ার গড়াই নদীতে নিজের মাত্র চার মাস বয়সী শিশুসন্তানকে পানিতে ফেলে দিয়ে এক মা নিজেও নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় জেলেদের তৎপরতায় যমুনা (২২) নামের ওই নারীকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও নিখোঁজ রয়েছে তার চার মাস বয়সী শিশু হাদি।
শুক্রবার (৩০ মে) বিকেল ৪টার দিকে কুষ্টিয়া শহরসংলগ্ন কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর এলাকার বাসিন্দা আবদুল আলিমের সঙ্গে যমুনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল বলে জানা গেছে। দুই দিন আগে যমুনা তার চার মাসের সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি কুমারখালীর সুলতানপুর বেলতলা গ্রামে যান।
শুক্রবার বিকেলে বাবার বাড়ি থেকে এসে হরিপুর সংযোগ সেতুর ওপর থেকে হঠাৎ শিশুটিকে গড়াই নদীতে ফেলে দেন। এরপর নিজেও নদীতে ঝাঁপ দেন। নদীতে মাছ ধরছিলেন এমন কয়েকজন জেলে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যমুনাকে জীবিত উদ্ধার করেন। তবে শিশুটি নদীর পানিতে তলিয়ে যায়।
কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আরদেশ আলী জানান, নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধারে নদীতে তল্লাশি অভিযান চলছে। উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য বিশেষজ্ঞ ডুবুরি দলকে খুলনা থেকে ডাকা হয়েছে।
এদিকে শিশুটির বাবা আবদুল আলিম জানান, তাদের সন্তান কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিল এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। ঘটনার কারণ সম্পর্কে তিনি কিছুই বুঝতে পারছেন না বলে জানান।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, ঘটনার পর যমুনাকে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। ঘটনার কারণ জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং কোনো প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন না।
নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

