Saturday, November 7

নরসিংদী রেলস্টেশনে আন্তনগর কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় দুই বছর বয়সী ছেলেসহ এক নারী নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৭ মে) রাত সাড়ে আটটার দিকে স্টেশনের ২ নম্বর রেললাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুরো পরিবার ঈদের কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফিরছিল।

নিহতরা হলেন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের কারারচর গ্রামের সুজন মিয়ার স্ত্রী সাথী বেগম (২৭) ও তাদের দুই বছর বয়সী ছেলে হাছেন মিয়া।

প্রত্যক্ষদর্শী, রেলওয়ে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানান, জীবিকার তাগিদে কখনো দিনমজুর, কখনো রাজমিস্ত্রির সহকারী, আবার কখনো অটোরিকশা চালক হিসেবে কাজ করতেন সুজন মিয়া। ঈদ উপলক্ষে পরিবারের জন্য কেনাকাটা করতে বুধবার বিকেলে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নরসিংদী শহরে আসেন তিনি।

রাত সাড়ে আটটার দিকে কেনাকাটা শেষে তারা নরসিংদী রেলস্টেশনে পৌঁছান। রেললাইন পার হয়ে অটোরিকশায় বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাদের। এ সময় ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা ঢাকাগামী আন্তনগর মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগির দরজা দিয়ে উঠে অন্য পাশ দিয়ে নামার চেষ্টা করেন তারা।

প্রথমে কোলে ছোট ছেলে হাছেনকে নিয়ে নামেন সাথী বেগম। পেছনে পাঁচ বছর বয়সী মেয়ের হাত ধরে ছিলেন সুজন মিয়া। ঠিক সেই মুহূর্তে দ্রুতগতিতে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল আন্তনগর কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেন। ট্রেনের ধাক্কায় সাথী বেগম ও তার কোলে থাকা শিশু হাছেন ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মা-ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্ত্রী ও সন্তানকে হারিয়ে ভেঙে পড়েন সুজন মিয়া। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “চোখের সামনেই আমার অবুঝ শিশুসন্তান আর স্ত্রীকে হারালাম। ট্রেন আসতে দেখে চিৎকার করছিলাম, আটকানোরও চেষ্টা করেছি, কিন্তু কিছুই করতে পারিনি।”

নরসিংদী রেলওয়ে ফাঁড়ির উপপরিদর্শক দিলীপ চন্দ্র সরকার জানান, দাঁড়িয়ে থাকা মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি দিয়ে ওঠানামা করতে গিয়ে কক্সবাজার এক্সপ্রেসের ধাক্কায় মা-ছেলের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
− 5 = 1