নরসিংদী জেলা-জুড়ে পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি ও কৃষকরা। জেলার ছোট-বড় খামারগুলোতে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু, মহিষ ও ছাগল মোটাতাজাকরণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
এবার জেলার কয়েকটি খামারে নতুনভাবে চালু হয়েছে লাইভ ওয়েট বা ওজন অনুযায়ী কেজি দরে গরু বিক্রির ব্যবস্থা। এতে ক্রেতারা সরাসরি গরুর ওজন অনুযায়ী মূল্য পরিশোধ করতে পারছেন। খামারিদের দাবি, এতে প্রতারণার ঝুঁকি কমছে এবং তুলনামূলক স্বচ্ছভাবে পশু কেনাবেচা সম্ভব হচ্ছে।
জেলার বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মালিক ও কর্মচারীরা। নিয়মিত গোসল করানো, প্রাকৃতিক খাদ্য সরবরাহ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মাধ্যমে পশুগুলোকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
খামার সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার শাহীওয়াল, সিন্ধি, দেশাল, ফ্রিজিয়ান, ক্রস ও ব্রাহমা জাতের গরু বেশি পালন করা হচ্ছে। ঢাকা, গাজীপুর জেলা, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মুন্সীগঞ্জ জেলা-সহ আশপাশের জেলাগুলোতেও নরসিংদীর গরুর চাহিদা রয়েছে।
হাম্বা ফার্ম-সহ কয়েকটি খামারে এবার দেশীয় কোরবানির গরু ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
খামারের পরিচর্যাকারী সোহেল বলেন, গরুকে প্রতিদিন তিন বেলা প্রাকৃতিক দানাদার খাবার দেওয়া হয় এবং দুই বেলা গোসল করানো হয়। ক্রেতারা গরু পছন্দ করার পর ঈদের আগে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
ফারুক ইসলাম, ম্যানেজার, হাম্বা ফার্ম, জানান এ বছর তাদের খামারে ২২০টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এরই মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ বিক্রি হয়ে গেছে। তিনি বলেন, বড় গরুর চাহিদা এবার বেশি।
অন্যদিকে আহসান শিকদার, চেয়ারম্যান, গ্রীন এগ্রো ফার্ম, জানান তাদের খামারে ২০০ কেজি থেকে ১২০০ কেজি ওজনের গরু রয়েছে। ৪০০ কেজির নিচের গরু ৫৫০ টাকা এবং ৫০০ কেজির বেশি গরু ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, নিরাপদ ও দেশীয় পদ্ধতিতে পশু মোটাতাজাকরণে খামারিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং ক্ষতিকর স্টেরয়েড বা রাসায়নিক ব্যবহার ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ছাইফুল ইসলাম বলেন, খামারিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর নরসিংদীর ছয় উপজেলায় কোরবানির জন্য ৮৫ হাজার ৯০৫টি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। জেলার চাহিদা ৭৮ হাজার ৬৪৫টি হওয়ায় অতিরিক্ত প্রায় ৭ হাজার ২৬০টি পশু পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

