Sunday, November 8

নেত্রকোণা: নেত্রকোণার মদনে ১২ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার চাঞ্চল্যকর মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে নেত্রকোণা সদরের কোর্ট ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গত ১৭ মে ঢাকার সিআইডি (ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট) অফিসে আসামির ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা জমা দেন।

ঘটনা ও মামলার বিবরণ

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের কওমি মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে শারীরিক পরিবর্তনের কারণে গত এপ্রিল মাসে পরীক্ষা করা হলে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এই ঘটনায় গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে মদন থানায় আমান উল্লাহ সাগর ও তার ভাইকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে শিশুটি ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।

গ্রেপ্তার ও আইনি প্রক্রিয়া

মামলা দায়েরের পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব।

  • গ্রেপ্তার: গত ৬ মে ভোর ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র‍্যাব-১৪ এর একটি দল মূল অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করে।
  • রিমান্ড ও ডিএনএ আবেদন: ৩ দিনের রিমান্ড শেষে গত ১০ মে আসামিকে আদালতে হাজির করে অপরাধ প্রমাণের স্বার্থে ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন জানান তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আক্তারুজ্জামান। আদালত আবেদন মঞ্জুর করলে গত ১৭ মে সিআইডি কার্যালয়ে তার ডিএনএ স্যাম্পল জমা দেওয়া হয়।

আদালত আগামী ২৮ জুন এই মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন। বর্তমানে আসামি জেলহাজতে রয়েছেন।

মানবাধিকার সংস্থার পরিদর্শন ও শিশুর নিরাপত্তা

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পর্যবেক্ষণ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়াতে গত ১১ মে মানবাধিকার সংস্থা ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)’-এর একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল নেত্রকোণায় ভুক্তভোগী শিশুর বাড়ি পরিদর্শন করেন।

এদিকে ১২ বছর বয়সী শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তার মায়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১২ মে আদালতের নির্দেশনায় তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে সিলেটের একটি নিরাপদ আশ্রয়ে (সেফ হোম) পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি সেখানেই নিরাপদ হেফাজতে ও চিকিৎসাধীন রয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
56 − = 49