Sunday, November 8

তারেক রহমান বলেছেন, সুনির্দিষ্ট ভিশন ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী-র ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও দক্ষ ও গতিশীল হবে।

বুধবার সকালে বাংলাদেশ আনসার ভিডিপি একাডেমি-র মিলনায়তনে আয়োজিত আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৬ উপলক্ষে ব্যুত্থান মহড়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় আনসার-ভিডিপির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে থানা পাহারা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাহিনীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি আরও বলেন, যে কোনো সুশৃঙ্খল বাহিনীর জন্য “চেইন অব কমান্ড” ও “ডিসিপ্লিন” অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়ে সামান্য অবহেলাও জনমনে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।

সরকারপ্রধান জানান, বর্তমানে ৪৭টি আনসার ব্যাটালিয়নের মধ্যে ১৬টি পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া ৫২ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সরকারি দপ্তর, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিরাপত্তা দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন।

তিনি বলেন, আনসার ও ভিডিপি শুধু নিরাপত্তা নয়, সামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে পুরুষ ও নারী ভিডিপি প্লাটুন বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন মোকাবিলা ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, “সঞ্জীবন প্রকল্প”, কারিগরি প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং ও জাপানি ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে সদস্যদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আনসার-ভিডিপিকে “ফার্স্ট রেসপন্ডার” বাহিনী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন্যা ও অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগে বাহিনীর সদস্যরা সাহসিকতা ও মানবিক দায়বদ্ধতার পরিচয় দিচ্ছেন।

ক্রীড়াক্ষেত্রে বাহিনীর অবদানের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ গেমসে ধারাবাহিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৪ সালে আনসার-ভিডিপি স্বাধীনতা পদক অর্জন করে। বর্তমানে দেশের ১০টি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৩৭৯ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

তিনি জানান, বাহিনীর কাঠামোগত উন্নয়নে নতুন বিধিমালা ও প্রবিধানমালার খসড়া প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে নতুন প্রবিধানমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
37 + = 40