Sunday, November 8

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে বিনামূল্যে লবণ বিতরণ, বিশেষ ঋণ সুবিধা এবং বিসিক চামড়া শিল্পনগরীতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চামড়া শিল্পের চলমান সংকট মোকাবিলা এবং মানসম্মত কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের লক্ষ্যে গঠিত টাস্কফোর্স এসব তথ্য জানিয়েছে।

টাস্কফোর্স সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির চামড়া যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য সরকারি অর্থায়নে সারাদেশের মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করা হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার লবণ কেনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এ ছাড়া চামড়া সঠিকভাবে ছাড়ানো ও সংরক্ষণের জন্য মাংস শ্রমিক এবং মসজিদের ইমামদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চামড়ার মান উন্নয়ন ও অপচয় কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত বছর ৯ হাজার ৩৩০টি মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের জন্য ২০ কোটি টাকার বরাদ্দে ১১ হাজার ৫৭১ মেট্রিক টন লবণ কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। পরে জেলা পর্যায়ের চাহিদা অনুযায়ী ৮ হাজার ৯৬ মেট্রিক টন লবণ বিতরণ করা হয়। এতে প্রায় ১৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২৩টি চামড়া সংরক্ষণ সম্ভব হয়েছিল।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। এর মধ্যে গরু ও মহিষ প্রায় ৫৭ লাখ, ছাগল ও ভেড়া ৬৬ লাখ এবং অন্যান্য পশু প্রায় সাড়ে ৫ হাজার। এবার কোরবানির চাহিদা এক কোটির কিছু বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক হিসাবে চামড়া সংরক্ষণে ৮০ থেকে ৮৫ হাজার মেট্রিক টন লবণের প্রয়োজন হতে পারে। গত বছর এ খাতে ব্যবহৃত হয়েছিল প্রায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন লবণ।

টাস্কফোর্স জানিয়েছে, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের পশুর হাট এবং স্থানীয় দোকানগুলোতে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি লবণ ডিলার ও মিল মালিকদের তালিকাও সরবরাহ করা হবে।

চামড়া সংগ্রহ ও বাজার ব্যবস্থাপনা জোরদারে সারাদেশের চামড়া আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের একটি খসড়া ডাটাবেজও প্রস্তুত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাদের নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে, কোরবানির মৌসুমে চামড়া কেনা ও সংরক্ষণের জন্য ব্যবসায়ীদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ঋণ সুবিধা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত ৫ মে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পুনঃতফসিল বা খেলাপি ঋণ থাকা চামড়া ব্যবসায়ীরাও আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত খেলাপি অবস্থাতেই নতুন মূলধনী ঋণ নিতে পারবেন। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকে চলতি বছর চামড়া খাতে ঋণ বিতরণের নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে, যা ২০২৫ সালের চেয়ে কম রাখা যাবে না।

চামড়া শিল্পের উৎপাদন সচল রাখতে বিসিক চামড়া শিল্পনগরী এলাকায় ঈদের পরবর্তী তিন মাস নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ধারিত ভোল্টেজে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সিইটিপিতে ডেডিকেটেড এক্সপ্রেস ফিডার লাইনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ, শিল্পনগরী ও সিইটিপিতে জরুরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রাখা এবং সাভার গ্রিড থেকে বিশেষ লোড বরাদ্দের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
55 − 52 =