২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দিন লালমনিরহাটের পাটগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান কোরআনের হাফেজ আজিজুল ইসলাম। তবে মৃত্যুর প্রায় ১১ মাস পর তাকে ‘জুলাই শহীদ’ উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়েরের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার বলছে, এটি ছিল নিছক দুর্ঘটনা—কেউ তাকে হত্যা করেনি।
নিহত আজিজুল ইসলাম পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ঝালঙ্গী (ডাঙ্গারবাড়ি) গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে। পরিবার জানায়, সেদিন সরকার পতনের খবরে স্থানীয়দের সঙ্গে আনন্দ মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এ সময় বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার প্রায় এক বছর পর ‘জুলাইযোদ্ধা’ পরিচয়ে মোশাররফ হোসেন নামের এক ব্যক্তি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৪৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫০ জনকে আসামি করা হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মীর পাশাপাশি দুই সাংবাদিককেও আসামি করা হয়।
নিহতের বাবা আব্দুর রহিম বলেন, “আমার সন্তানকে কেউ হত্যা করেনি। সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে। আমরা কোনো মামলা করিনি, কাউকে দোষারোপও করিনি।”
তিনি অভিযোগ করেন, তাদের অগোচরে ও অনুমতি ছাড়াই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলাটি করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি পুলিশ মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে মামলা প্রত্যাহারের আবেদনও করেছেন।
নিহতের মা রেজিয়া খাতুন বলেন, “আমার ছেলে খুব ভালো মানুষ ছিল। তাকে নিয়ে মিথ্যা মামলা করে নির্দোষ মানুষের ক্ষতি করা হোক, এটা আমরা চাই না।”
মামলার আসামি হওয়া সাংবাদিক আজিজুল হক দুলাল বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে আমি পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলাম। তারপরও আমাকে আসামি করে হয়রানি করা হয়েছে।”
অন্য সাংবাদিক মামুন হোসেন সরকারও দাবি করেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থেকেও তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
মামলার বাদী মোশাররফ হোসেন অবশ্য দাবি করেছেন, স্থানীয়দের অনুরোধেই তিনি বাদী হয়েছেন। তার ভাষ্য, “পরিবার প্রথমে মামলা করতে ভয় পেয়েছিল। পরে তারা আমাকে মামলা করতে অনুরোধ করে।”
তবে নিহতের পরিবার এ দাবি অস্বীকার করেছে।
বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা পাটগ্রাম থানার এসআই আব্দুল জলিল জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উত্তোলনে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। একইসঙ্গে তদন্তে প্রমাণ না পাওয়ায় দুই সাংবাদিককে অব্যাহতির সুপারিশও করা হয়েছে।

