Sunday, November 8

যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি-র মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে স্বপ্নভরা চোখে দেশে ফেরার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কফিনবন্দি হয়েই ফিরতে হলো তাকে।

শনিবার (৯ মে) সকালে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ মরদেহ পৌঁছালে সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কফিন ধরে বাবা–মায়ের আহাজারি ও স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।

সকাল ৯টা ১০ মিনিটে দুবাই হয়ে এমিরেটস এয়ারলাইনস-এর একটি ফ্লাইটে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছে। মরদেহ গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন তার মা–বাবা, মামাসহ পরিবারের সদস্যরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মরদেহবাহী কফিনটি বিমানবন্দরে আনার পর স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। কেউ কফিন ছুঁয়ে শেষবারের মতো বৃষ্টিকে ডাকছিলেন, আবার কেউ নির্বাক দাঁড়িয়ে ছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মরদেহ সরাসরি মাদারীপুর-এর গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। বাদ আসর সেখানে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর দাদা–দাদির কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হবে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটসের ইকে–০২২০ ফ্লাইটে মরদেহ ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয়। দুবাইয়ে ট্রানজিট শেষে ইকে–০৫৮২ ফ্লাইটে তা ঢাকায় পৌঁছে। মরদেহ বিমানে তোলার সময় মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেট-এর একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে স্থানীয় সময় বুধবার টাম্পা-য় বৃষ্টির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

একই ঘটনায় নিহত জামিল আহমেদ লিমন-এর মরদেহ গত ৪ মে দেশে পৌঁছায়। তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা-এ ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন।

অন্যদিকে, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর সাবেক শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করছিলেন।

গত ১৬ এপ্রিল এই দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হন। পরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জামিলের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহ-কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ফার্স্ট ডিগ্রি হত্যার দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
− 1 = 1