এক সময় যশোরের পরিচিত ফুটবলার, পরে দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকায় উঠে আসা খন্দকার নাইম আহমেদ টিটনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় সশস্ত্র হামলায় নিহত হওয়ার একদিন পর তাকে যশোরে দাফন করা হয়।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বাদ এশা যশোর শহরের কারবালা জামে মসজিদে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। টিটনের বাড়ি শহরের খড়কী ‘আপনের মোড়’ এলাকায়। তিনি সাবেক জুটমিল কর্মকর্তা খন্দকার ফখরুদ্দিনের ছেলে এবং ২০০০ সালে কথিত ক্রসফায়ারে নিহত সন্ত্রাসী টুটুলের ছোট ভাই।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে নিউ মার্কেট এলাকায় সশস্ত্র হামলায় নিহত হন টিটন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে তাকে লক্ষ্য করে কাছ থেকে ৫-৬ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বড় পরিবারে বেড়ে ওঠা টিটন অল্প বয়সেই অপরাধজগতে জড়িয়ে পড়েন। তার বড় ভাই টুটুল ও ভগ্নিপতির মাধ্যমে তিনি অপরাধ চক্রে প্রবেশ করেন।
১৯৯০-এর দশকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও পরে টিটন ও তার ভাই অস্ত্র ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৯৬ সালের পর ঢাকায় গিয়ে মোহাম্মদপুরকে কেন্দ্র করে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন তারা। যশোর ও ঢাকায় সমান প্রভাব ছিল তাদের।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র অনুযায়ী, হত্যা, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগ ছিল টিটনের বিরুদ্ধে। ২০২১ সালে প্রকাশিত দেশের ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় তার অবস্থান ছিল দ্বিতীয়।
স্থানীয়দের দাবি, ১৯৯৯ সালে যশোরের কারবালা এলাকায় মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে দুই বিএনপি কর্মীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেন টিটন ও তার ভাই। ওই ঘটনার কয়েক মাস পর ২০০০ সালে টুটুল নিহত হন কথিত ক্রসফায়ারে। এরপর টিটন ঢাকায় পালিয়ে গিয়ে অপরাধ জগতে সক্রিয় থাকেন।
যশোরের সাবেক ফুটবলার ও রেফারি লাবু জোয়ার্দার বলেন, “টিটন এক সময় ভালো ফুটবল খেলতেন। ৯০-এর দশকে এ অঞ্চলের পরিচিত খেলোয়াড় ছিলেন।” তার মতে, রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়ে প্রতিশোধপরায়ণতা থেকেই টিটনের অপরাধজগতে প্রবেশ।
বহুবার গ্রেপ্তার হলেও দীর্ঘদিন ধরেই আড়ালে ছিলেন টিটন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে আবার সক্রিয় হন বলে জানা যায়।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুম খান বলেন, “তিনি যশোরের বাসিন্দা বলে শুনেছি। তবে তার বিরুদ্ধে কী কী মামলা রয়েছে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।”

