Sunday, November 8

জাতীয় সংসদে সরকারি দলের কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে অধিবেশন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিরোধী দলের সমালোচনা ও ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ তুলে দেওয়া বক্তব্যের সময় দফায় দফায় হট্টগোল সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকারকে একাধিকবার হস্তক্ষেপ করতে হয় এবং সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া হুঁশিয়ারি দেন।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

ফজলুর রহমান তার প্রতি করা ব্যক্তিগত মন্তব্যের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাকে ‘ফজা পাগলা’ বলে কটূক্তি করা হয়েছে এবং বয়স নিয়েও মন্তব্য করা হয়েছে। এ সময় স্পিকার তাকে প্রশ্ন করেন, এমন মন্তব্য সংসদে করা হয়েছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, এমন মন্তব্য করা হয়েছে।

পরবর্তীতে তিনি জামায়াতে ইসলামী ও মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে কঠোর মন্তব্য করলে বিরোধী সদস্যরা প্রতিবাদ জানান এবং সংসদে ব্যাপক হট্টগোল শুরু হয়। স্পিকার সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রত্যেক সদস্যের বক্তব্য দেওয়ার অধিকার আছে এবং আপত্তি থাকলে তা যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করতে হবে।

হট্টগোলের মধ্যেই ফজলুর রহমান বলেন, শহীদ পরিবারের কেউ জামায়াত করলে তা ‘ডাবল অপরাধ’। তার এই মন্তব্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

স্পিকার সংসদীয় রীতিনীতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সংসদ দেশের সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং এখানে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সবার দায়িত্ব। তিনি সদস্যদের ‘রুলস অব প্রসিডিউর’ মেনে চলার আহ্বান জানান এবং বলেন, এই ধরনের আচরণ জাতির সামনে অশোভন বার্তা দেয়।

পরে ফজলুর রহমান আবার বক্তব্য শুরু করে যুদ্ধাপরাধ, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস এবং ইনডেমনিটি ইস্যুতে কথা বলেন। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়ে শোক প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন এবং সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাগুলোর তদন্তের দাবি জানান।

শেষে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে বক্তব্য শেষ করেন।

Leave A Reply


Math Captcha
27 − 24 =