Sunday, November 8

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে কালবৈশাখীর ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের দক্ষিণ কোচাশহর গ্রাম। এতে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে ওই গ্রামের অন্তত ৩০টি পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কোচাশহর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ কাঁচা ঘরবাড়ি। এছাড়া গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের ফলে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

কোচাশহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হঠাৎ ঝড়ে কোচাশহর ইউনিয়নের দক্ষিণ কোচাশহর গ্রামের অন্তত ৩০টি পরিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি সহায়তা প্রয়োজন।

এ সময় চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে এক বস্তা করে চাল ও কিছু নগদ টাকা দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল রোববার ২৬ এপ্রিল বিকেলের দিকে আকাশে হঠাৎ কালো মেঘ জমে প্রবল দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এ সময় ঝড়ের তাণ্ডবে কোচাশহর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ অন্তত ৩০টি পরিবারের কাঁচা ঘরবাড়ির টিন দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং কোনো কোনো বাড়ির টিন উড়ে গিয়ে পাশের জমিতে পড়ে। অনেক গাছ উপড়ে পড়ে এবং জমিতে থাকা পাকা ও আধাপাকা ধানক্ষেত নষ্ট হয়। কয়েকটি পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। আশপাশের এলাকাতেও আংশিক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খাজা মিয়া ও জামরুল ইসলাম বলেন, অনেকের ঘরবাড়ি উড়ে গেছে। তারা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। গাছপালা ও ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গতকাল থেকে তারা অন্ধকারে রয়েছেন।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ঝড়ে গোবিন্দগঞ্জে বেশকিছু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

গোবিন্দগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার রাশেদ আব্দুল্লাহ জানান, ঝড়ে চারটি বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে উপজেলার কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 62 = 72