বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় একটি ব্রিজ নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ব্রিজ নির্মাণের নামে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে একাধিকবার টাকা আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢালাইয়ের সময় প্রয়োজনীয় সিমেন্ট না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকেই সিমেন্ট সংগ্রহ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের দুশমী-করিমবাজার খালের ওপর বারপাইকা গ্রামের রুহুল হোসেনের বাড়ির সামনে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। ব্রিজটির দৈর্ঘ্য ৪৫ ফুট ও প্রস্থ সাড়ে ৫ ফুট। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত দৈর্ঘ্য ৫৫ ফুট হলেও মাত্র ৪৫ ফুট ঢালাই দেওয়া হয়েছে।
নির্মাণ নীতিমালা অনুযায়ী ৫ ইঞ্চি পুরু ঢালাই দেওয়ার কথা থাকলেও প্রায় সাড়ে ৩ ইঞ্চি ঢালাই করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ৮ ইঞ্চি ও ৬ ইঞ্চি ব্যবধানে রড বসানোর নিয়ম থাকলেও প্রায় এক ফুট পরপর রড ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাদের দাবি, ঢালাইয়ের সময় অনিয়ম দেখে বাধা দিলে ইউপি সদস্য মাত্র পাঁচটি রড এনে কাজ চালিয়ে যান। পরে সিমেন্টের ঘাটতি দেখা দিলে স্থানীয়দের কাছ থেকে পাঁচ ব্যাগ সিমেন্ট সংগ্রহ করে কাজ শেষ করা হয়। ব্রিজের উত্তর পাশে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করে মঙ্গলবার ঢালাই সম্পন্ন করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হিমু মোল্লা ও ইদ্রিস মোল্লা বলেন, নিম্নমানের কাজ হওয়ায় ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে যাতায়াতে আতঙ্কে রয়েছেন তারা।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রথম পর্যায়ে দেড় লাখ টাকা এবং পরে ঢালাইয়ের জন্য আরও এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এছাড়া স্থানীয়দের কাছ থেকেও প্রায় ৮৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
তবে ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ৪৫ ফুটের বাইরে কিছু জায়গায় বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দারাই করেছেন।
রত্নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সরদার বলেন, ব্রিজ নির্মাণের জন্য পর্যায়ক্রমে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, ব্রিজের ঢালাইয়ের বিষয়টি তাদের জানানো হয়নি এবং এলজিইডিকে অবহিত না করে এ ধরনের কাজ করা নিয়মবহির্ভূত।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বলেন, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন এবং সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

