Sunday, November 8

নুরুল ইসলাম সুমন, কক্সবাজার
ডেক ছাড়াই কালেকশন, শ্রমিকদের থেকে টাকা কাটা—চকরিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ; প্রশাসনের নীরবতা

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নে লবণের গুদির ইজারা নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ইজারার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও ‘ডেক’ (রসিদ/রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া) ছাড়াই অব্যাহতভাবে অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নিয়মবহির্ভূতভাবে লবণের গুদিতে সংরক্ষিত লবণ থেকেও ট্যাক্স আদায় করা হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরি থেকে ইজারার টাকা কেটে নেওয়া এবং বিভিন্ন খাত দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইজারার মোট মূল্য ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা হলেও এখন পর্যন্ত জমা হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৮০ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের বকেয়া অর্থ ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে জমা দেওয়া হয়েছে—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব নজরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অপরদিকে পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিএনপি নেতা মুজিব ও আব্দুর রহিম বলেন, “এভাবে ইজারা কার্যক্রম আগেও চলেছে।”

যুবদল নেতা রাব্বানীকে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, “আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই, জামিল ভাই জানেন।”

তবে পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব নজরুল ইসলামকে ফোনে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর না দিয়ে সম্ভাব্য ২ লাখ ৫৩ হাজার টাকার হিসাব উল্লেখ করে কল কেটে দেন।পরে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি মোবাইল বন্ধ রাখেন।

এদিকে জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী, যিনি কক্সবাজার জেলার মাতামুহুরি সাংগঠনিক উপজেলা বিএনপির সভাপতি, তিনি বলেন—
“এইসব বিষয় পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়ন জানবে। আমাদের দলের কোনো প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়নি, আমি কেন জানবো?”

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বাইরে থাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ন দেব জানান, “বিষয়টি আমার জানা নেই, ইউএনও স্যার এলে বিস্তারিত জানা যাবে।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এ ধরনের অনিয়ম চলতে থাকলে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে। দ্রুত তদন্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 85 = 94