গণভবনকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের স্মরণে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও উদ্বোধনের তারিখ এখনো নির্ধারণ হয়নি। প্রায় ১৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই জাদুঘর ঘিরে ব্যয় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্বোধনের আগেই বিভিন্ন খাতে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইন্টারনেট বিল, সেমিনার, আলোচনা, পরামর্শ ও আপ্যায়ন খরচ। মাত্র দুই মাসে সংস্কৃতিকর্মীদের জন্য ব্যয় দেখানো হয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল’ সংশোধিত আকারে পাস হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী জাদুঘরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
তথ্য অনুযায়ী, জাদুঘরের বিভিন্ন কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব ছিল বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষের ওপর। অভিযোগ রয়েছে, পৃথক বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও নিজস্ব তহবিল থেকে আপ্যায়ন ও শ্রম ব্যয়সহ নানা খাতে কয়েক কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এ অনিয়মের সঙ্গে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব এবং পর্ষদের চেয়ারম্যান মেরিনা তাবাসসুম–এর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।
নথিপত্রে দেখা গেছে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ টাকা আপ্যায়ন খরচ দেখানো হয়েছে। এছাড়া টিনের বাউন্ডারি নির্মাণে প্রায় দেড় কোটি টাকা, আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম সরবরাহের নামে ৩ কোটি ৩১ লাখ টাকার বেশি ব্যয় দেখানো হয়েছে।
জাদুঘরের মাস্টারপ্ল্যান, স্থাপত্য নকশা ও অভ্যন্তরীণ ডিজাইনের জন্য ৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকার বেশি অনুমোদন দেওয়া হয়। ১৯টি ডকুমেন্টারি নির্মাণে ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা। গ্যালারি সজ্জা, ভাস্কর্য নির্মাণ, আয়নাঘর ও অন্যান্য কাজে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে সিভিল ও ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল কাজের জন্য মোট ৯৭ কোটি ৩১ লাখ টাকার প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়। যদিও কাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও জানুয়ারিতে উদ্বোধন অনুষ্ঠান দেখিয়ে ব্যয় দেখানো হয়েছে, পরে আবার একই ধরনের ব্যয় দেখানো হয়েছে—যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জাদুঘরের উদ্বোধন প্রসঙ্গে তানজিম ওয়াহাব বলেন, প্রশাসনিক অনুমোদন সাপেক্ষে শিগগিরই এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তবে কবে উদ্বোধন হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

