Sunday, November 8

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে ‘বিরোধী দল ও মত দমন কমিশন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। ২০০৯ সালের মানবাধিকার কমিশন আইন পুনঃপ্রচলনের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, এই আইন জাতিকে সামনে না নিয়ে বরং পিছিয়ে দেবে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল-২০২৬’ উত্থাপনের পর আপত্তি জানিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সভাপতিত্ব করেন। বিলটি উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বিলের বিরোধিতা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আজকের সংসদ একটি ক্রান্তিকালীন সময় অতিক্রম করে এসেছে। অথচ জাতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার জন্য আমাকে মাত্র দুই মিনিট সময় দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত অপ্রতুল। মৌলিক বিষয়ে পর্যাপ্ত সময় না দেওয়াটা দুঃখজনক।”

২০০৯ সালের আইনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এই বিল পাসের মাধ্যমে ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন পুনঃপ্রচলন করা হচ্ছে। বিগত সময়ে আমরা দেখেছি, এই কমিশনকে বিরোধী দল দমনে ব্যবহার করা হয়েছে। বিএনপিকে দমন করার বৈধতা দিয়েছে এই কমিশন। এমনকি কমিশনের চেয়ারম্যানকে বলতে শুনেছি—মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে জামায়াত নেতাকর্মীদের গুলি করা বৈধ।”

তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ বাতিল করে ২০০৯ সালের আইনে ফিরে যাওয়া সংসদের জন্য ‘পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ’ হবে এবং এটি জাতিকে পিছিয়ে দেওয়ার উদাহরণ হয়ে থাকবে।

কমিশনের সিলেকশন কমিটির গঠন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, “ছয় সদস্যের সিলেকশন কমিটির পাঁচজনই সরকারদলীয়। স্পিকারের নেতৃত্বে থাকা এই কমিটিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, সরকারি দলের এমপি ও সচিব থাকেন। এমন কমিটির মাধ্যমে গঠিত কমিশন কীভাবে নিরপেক্ষ কাজ করবে?”

মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তে সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাহিনী বা সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে পূর্বানুমতির বিধান থাকলে স্বচ্ছ তদন্ত সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করলে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি জানানো হয়।

Leave A Reply


Math Captcha
89 + = 93