Sunday, November 8

জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে নিরুদ্দেশ থাকা সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী দেড় বছরের বেশি সময় পর গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেছেন। হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে রিমান্ড ও জামিন—দুই আবেদনই নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রায় ২০ মিনিটের শুনানি শেষে বিচারক এ আদেশ দেন। শুনানি চলাকালে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে দুই দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও আদালত তাতে সায় দেননি। একই সঙ্গে আসামিপক্ষের জামিন আবেদনও নাকচ করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সহিংসতা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় রাজধানীর লালবাগ থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মঙ্গলবার ভোরে ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাঁকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার পর আদালতে হাজির করা হয়।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, আন্দোলনের সময় গুলিবর্ষণের ঘটনায় তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে রিমান্ড প্রয়োজন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, মামলার এজাহারে নাম থাকা ছাড়া তাঁর সম্পৃক্ততার কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ নেই এবং তিনি সাংবিধানিকভাবে নিরপেক্ষ পদে ছিলেন।

শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

হাজতখানায় নেওয়ার সময় ভিড়ের মধ্যে সিঁড়িতে শিরীন শারমিনের ভারসাম্য হারানোর ঘটনাও ঘটে। তবে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, তিনি পড়ে যাননি; পা বেঁকে গেলে নারী পুলিশ সদস্যরা তাঁকে ধরে রাখেন।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের আগ পর্যন্ত ওই পদে ছিলেন। পরে তিনি পদত্যাগ করেন। তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে একাধিক মামলার তথ্য রয়েছে, যার কিছু তদন্তাধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Leave A Reply


Math Captcha
7 + 2 =