খাগড়াছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব বৈসাবিকে ঘিরে শুরু হয়েছে রঙিন আয়োজন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে বের করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, যা রূপ নেয় এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়।
জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে কবুতর ও রঙিন বেলুন উড়িয়ে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। এ সময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাউন হলে গিয়ে শেষ হয়। পথে পথে দেখা যায় বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, অলংকার ও বাদ্যযন্ত্রে সজ্জিত অংশগ্রহণকারীরা পাহাড়ি সংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরেন।
বিশেষ আকর্ষণ ছিল মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পানি খেলা ও নান্দনিক ডিসপ্লে প্রদর্শনী, যা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। পাহাড়ি ও বাঙালি সবাই মিলে আয়োজনকে সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণে পরিণত করেন।
শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, এই আয়োজন শুধু উৎসব নয়, বরং নিজেদের সংস্কৃতি তুলে ধরার বড় একটি মঞ্চ। শহরজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন, বৈসাবি সবার উৎসব। বাঙালি, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, সাঁওতালসহ সব জনগোষ্ঠীর মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন। এই আয়োজনের মাধ্যমে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাই।
তিনি জানান, আগামী ১২ এপ্রিল চাকমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বৈসাবি উৎসব। এবারের আয়োজন ঘিরে খাগড়াছড়ি জুড়ে আনন্দমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনে খাগড়াছড়ি এখন যেন এক রঙিন উৎসব নগরীতে পরিণত হয়েছে।

