Sunday, November 8

কুমিল্লার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের হোস্টেল কক্ষ থেকে তাকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে সহপাঠীরা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শিক্ষার্থীর নাম অর্পিতা নওশিন। তিনি ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি খুলনা সদরে।

সহপাঠীদের অভিযোগ, কলেজের এক শিক্ষকের রোষানলে পড়ে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে ছিলেন নওশিন। একটি বিষয়ে পাঁচবার পরীক্ষা দিয়েও উত্তীর্ণ হতে না পারায় তিনি হতাশায় ভুগছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত মানসিক চাপে ১০৯টি ট্যাবলেট সেবন করে আত্মহত্যা করেন তিনি।

শনিবার সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছে। পাশাপাশি ছাত্রীর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নওশিনের সহপাঠীরা জানান, প্রথম বর্ষ থেকেই অ্যানাটমি বিভাগের এক শিক্ষকের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় অন্যান্য বিষয়ে উত্তীর্ণ হলেও অ্যানাটমিতে ফেল করেন তিনি। পরবর্তী তিন বছরে আরও চারবার পরীক্ষা দিয়েও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এতে তার ওপর মানসিক চাপ বাড়তে থাকে।

নওশিনের ভাই শাহরিয়ার আরমান বলেন, তার বোন আত্মহত্যা করার মতো মানসিক অবস্থায় ছিলেন না। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপই তাকে এ পথে ঠেলে দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিষয়ে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল এবং তার সমস্যার বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।

কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল হক জানান, শিক্ষার্থীর অসুস্থতার খবর পাওয়ার পর দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল মোস্তফা জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষ অপমৃত্যুর মামলা করেছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না এলেও পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 89 = 90