রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনাস্থলে ভিড় করেন বহু মানুষ। বেশির ভাগই নীরব—তারা দেখতে এসেছেন আগের দিন পদ্মা নদীতে বাসডুবির সেই মর্মান্তিক স্থান।
বুধবার কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ৪০ জন যাত্রী নিয়ে ফেরিতে ওঠার সময় পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জেলা প্রশাসন সব মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের একাধিক সদস্য রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া মৃতদের মধ্যে চার ছেলে শিশু, তিন কন্যাশিশু, ১১ নারী ও আট পুরুষ রয়েছেন।
স্থানীয় রহমত প্রামাণিক বলেন, “দৌলতদিয়া ঘাটে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা আগে ঘটেনি। একসঙ্গে এত মানুষের মৃত্যু আমরা কখনো দেখিনি। সঠিক তদন্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা না ঘটে।”
দুর্ঘটনায় আহত ১১ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। দুপুর ১টার দিকে নতুন করে কেউ সন্ধানে না আসায় উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয় বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম।
ঘটনার সময় ফেরিতে থাকা এক চালক জানান, দ্রুতগতিতে ফেরিতে তুলতে গিয়ে বাসচালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে থাকতে পারেন। রাজবাড়ী জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের কর্মকর্তা মো. ইমাম হোসেন বলেন, বাসটিতে ৪০ জন যাত্রী ছিল। হেল্পার ও কন্ডাক্টর প্রাণে বাঁচলেও চালক আরমান খান নিহত হয়েছেন।
উদ্ধার অভিযান শুরুতেই জটিলতা দেখা দেয়, কারণ দুর্ঘটনাস্থলটি ছিল গভীর। উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান শুরু করে। ঝোড়ো বৃষ্টিতে কিছু সময় ব্যাহত হলেও প্রায় সাত ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনা তদন্তে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন পৃথক দুটি কমিটি গঠন করেছে। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত গতির কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে বলে ধারণা করছেন জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার।
নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জানান, নিহতদের দাফনের জন্য প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের চিকিৎসায় ১৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হবে। নিহতদের পরিবারের পুনর্বাসনের উদ্যোগও নেওয়া হবে।
এদিকে নিহতদের বিভিন্ন স্থানে দাফন ও শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। কুষ্টিয়ায় নিহত চারজনের মধ্যে তিনজনের দাফন ও একজনের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে বলে স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে স্বজনদের কাছে।

