রাজধানীর গুলশানে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীকে হত্যাচেষ্টার মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান রিয়াদসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথির আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে তাদের জামিন শুনানির জন্য আগামী ১ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে।
কারাগারে পাঠানো অন্য আসামিরা হলেন—মো. রিয়াদুল হাওলাদার, মো. আলিফ আহম্মেদ আশিক ও সায়েম শিকদার। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশান এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার অভিযোগ
মামলার বাদী প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নির্জন সরদার বাঁধন। তিনি রাজ্জাকসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০–২২ জনকে আসামি করে গুলশান থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, পূর্বশত্রুতার জেরে গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ তলার ৪১২ নম্বর কক্ষে নির্জনের সঙ্গে আসামিদের দেখা হয়। এ সময় আসামিরা তাকে স্থায়ী ক্যাম্পাস ও কনভোকেশন সংক্রান্ত বিষয়ে চাপ দেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গে পরামর্শ করার সময় আব্দুর রাজ্জাকের নির্দেশে রিয়াদুল ও সায়েম চেয়ার দিয়ে নির্জনকে আঘাত করেন। এতে তিনি পিঠ ও বুকে আঘাত পান।
এছাড়া রাজ্জাক সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে নির্জনের মুখে আঘাত করলে তার নাকের ওপরের অংশ কেটে যায় এবং তিনি গুরুতর রক্তাক্ত হন। পরে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
পুলিশ ও আদালতের পদক্ষেপ
ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে আসামিরা ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। পরে গুলশান থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে।
শুক্রবার আদালতে হাজির করার পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক আরমান আলী তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আসামিপক্ষ জামিন আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, আসামি আব্দুর রাজ্জাক এর আগেও গত বছরের ২৬ জুলাই গুলশানে সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদা দাবির ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

