Friday, November 6

গানম্যানসহ ক্যান্টনমেন্টের ভেতর দিয়ে পার হওয়ার সময় সেনাসদস্যদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এস এম খালিদুজ্জামান। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী।

ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে গণমাধ্যমের হাতে এসেছে, যেখানে দেখা যায়—ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশের সময় দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্যরা অস্ত্র বা গানম্যান নিয়ে প্রবেশের নিয়ম নেই বলে তাকে অবহিত করলে প্রার্থীর সঙ্গে তর্কাতর্কির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে খালিদুজ্জামান উত্তেজিত হয়ে সেনাবাহিনী ও প্রশাসন নিয়ে নানা অভিযোগ তোলেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, ক্যান্টনমেন্টের প্রবেশপথে খালিদুজ্জামানের পরিচয় জানতে চাইলে তার সঙ্গে থাকা একজন বলেন, তিনি ওই আসনের এমপি প্রার্থী। পরে সেনাসদস্য জানতে চান তিনি কোন দলের প্রার্থী—জবাবে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর।

সেনা কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্টের নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ করে বলেন, ভেতরে অস্ত্র বা গানম্যান নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। এ সময় খালিদুজ্জামান পাল্টা প্রশ্ন ও অভিযোগ করে বলেন, অন্যদের ক্ষেত্রে নাকি এই নিয়ম মানা হয় না। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু কর্মকর্তা ব্যক্তি স্বার্থে সেনাবাহিনী ও সরকারকে বিতর্কিত করছেন এবং দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।

একপর্যায়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে সেনাপ্রধানের সঙ্গে কথা বলবেন এবং কেন তার গাড়ি আটকে রাখা হচ্ছে—সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চান। তিনি বারবার অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে।

এ সময় দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। পরে ফোনে কথা বলার সময় খালিদুজ্জামান নিজেকে ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী পরিচয় দিয়ে গানম্যানসহ চলাচলের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানান। তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার জন্য তাকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, খালিদুজ্জামান তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের গাড়ি আটকে রাখার দৃশ্য ভিডিও করার নির্দেশ দিলে সেনাসদস্য ভিডিও ধারণ নিষিদ্ধ বলে জানান।

পরে সেনাসদস্যরা তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে তার নিরাপত্তার দায়িত্ব সেনাবাহিনী নেবে এবং ক্যান্টনমেন্ট অতিক্রম করার পর গানম্যান পুনরায় তার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।

তবে খালিদুজ্জামান এ সময়ও অভিযোগ করেন, তাকে নিরাপত্তাহীন অবস্থায় ফেলতে চাওয়া হচ্ছে এবং পরিকল্পিতভাবে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave A Reply


Math Captcha
8 + 1 =