Friday, November 6

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশ ও আন্দোলন-সংগ্রামের পর জনগণের ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। এখন দল ও সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জনগণের আস্থা ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখা।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং জনগণের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থাকার মাধ্যমেই বিএনপিকে মানুষের আস্থা ধরে রাখতে হবে।

তিনি বলেন, ৪৮ বছর আগে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, দেশের উন্নয়ন, উৎপাদন ও আত্মনির্ভরশীলতার লক্ষ্য নিয়ে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শিক্ষা, সংস্কৃতি, বৈদেশিক নীতি, অভ্যন্তরীণ নীতি ও আইনশৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ১৯৭৫ সালে বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে নাগরিক স্বাধীনতা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চার সুযোগ তৈরিতে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। বিদেশে শ্রমশক্তি রপ্তানি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও জিয়াউর রহমান ভূমিকা রেখেছেন।

এরশাদবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, সামরিক আইন জারি করে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখলের পর দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ স্তব্ধ হয়ে যায়। সেই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বেগম খালেদা জিয়া নয় বছর আপসহীন সংগ্রাম করেছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য তিনি কোনো আপস করেননি।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও খালেদা জিয়া দল ও দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বছরের পর বছর কারাবন্দি থেকেও তিনি গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপস করেননি। শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনেও তিনি ছিলেন মূল প্রেরণা।

রিজভী আরও বলেন, খালেদা জিয়া কারাবন্দি থাকা অবস্থায় দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেন তারেক রহমান। তিনি পিতা-মাতার আদর্শ ধারণ করে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সংগঠিত করেছেন।

বর্তমান সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তারেক রহমান নিরলসভাবে কাজ করছেন। সামাজিক সুরক্ষা, উন্নয়ন ও উৎপাদনের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ ও চক্রান্ত থাকতে পারে। তবে সরকার সেগুলো মোকাবিলা করে এগিয়ে যাচ্ছে। ফার্মার কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতাসহ জনগণের কাছে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, এটি শুধু বাংলাদেশ বা সরকারের সংকট নয়, বরং বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবও রয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে সরকার সংকট মোকাবিলায় উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি জানান, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দের বাইরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহেশখালীর একটি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি মেরামত করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দল ও সরকারের সম্পর্ক প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, দল ও সরকার দুটি আলাদা প্রতিষ্ঠান হলেও তাদের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। জনগণ বিএনপিকে ভোট দিয়ে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। তাই দলের নেতাকর্মীদের মধ্য থেকেই সরকারের মন্ত্রী হওয়া স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, দলের নেতাকর্মীরা জনগণকে সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করবেন। দল তার জায়গায় থাকবে এবং সরকার তার জায়গায় থেকে দায়িত্ব পালন করবে।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অঙ্গীকার তুলে ধরে রিজভী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা গণতান্ত্রিক চেতনা, জনগণের সামাজিক সুরক্ষা এবং দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। ৩১ দফা, নির্বাচনি ইশতেহার এবং বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’-এ দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সরকারকে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশ পেরিয়ে বিএনপি জনগণের ভোটে বিজয়ী হয়েছে। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জনগণের আস্থা ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখা। এজন্য জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং জনগণের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

Leave A Reply


Math Captcha
− 3 = 1