Friday, November 6

দেশের বর্তমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট গত ১৭ বছরের সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, অতীতে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার কারণেই বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। এখন সরকার জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে ধীরে ধীরে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ গ্রাহকদের উৎপাদকে পরিণত করার পরিকল্পনা করছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর অধীন ফাউন্ডেশনের ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার এবং পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. তিতুমীর জানান, সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামোর আওতায় বিভিন্ন ফাউন্ডেশন পাঁচটি ক্লাস্টারে কাজ করবে। এর মধ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন খাত রয়েছে।

বিদ্যুৎ খাত নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের অধিকাংশ মানুষ বিদ্যুতের ভোক্তা। সরকার এখন তাদের বিদ্যুতের ভোক্তা থেকে উৎপাদকে পরিণত করতে চায়। আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন ফাউন্ডেশন দুই গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি গত ছয় মাসে ৩০০টির বেশি নেট মিটারিং আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, গ্যাস দিয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেখানে ৪ থেকে ৫ টাকা খরচ হয়, সেখানে এলএনজি দিয়ে খরচ হয় প্রায় ৬৪ টাকা। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যাওয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় ও ভর্তুকির চাপ কমানোর সুযোগ রয়েছে।

ব্রিফিংয়ে দেশের অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিতুমীর বলেন, সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পুনরুদ্ধার, উত্তরণ ও পুনর্গঠনের তিন ধাপে পাঁচ বছর মেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশল অনুমোদন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০ হাজার কোটি টাকার অর্থায়নের ব্যবস্থা করেছে। এ জন্য ৪০টি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে এবং আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ঋণ বিতরণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাসের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা।

Leave A Reply


Math Captcha
14 + = 16