Friday, November 6

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় তদন্তভার পেয়েছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তৈরি হওয়া ধোঁয়াশার মধ্যে মামলাটি আরও গভীরভাবে তদন্তের জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, মামলাটি আরও গভীরভাবে তদন্ত করতেই ডিবিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সোমবার বিকালে মামলার আগের তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জী ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে মামলার প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও নথিপত্র নতুন তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলীর কাছে হস্তান্তর করেন। পরে দুই তদন্ত কর্মকর্তা নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে যান। সেখানে আগের তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলের বিভিন্ন বিষয় নতুন তদন্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।

ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, রবিবার গভীর রাত পর্যন্ত মামলার দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত সূত্রে তারা জানতে পেরেছেন, আসামিরা পুলিশ কমিশনারের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে জবানবন্দিতে কিছু অতিরিক্ত তথ্যও এসেছে, যা তারা আগে পুলিশকে জানাননি।

এর আগে রবিবার ভোরে এ ঘটনায় মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মুগ্ধ নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে এবং সিদ্ধার্থ বিনয় চন্দ্র দাসের ছেলে।

গত শনিবার রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আগামী স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন এবং প্রিয়ম ছিল পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পুলিশ জানিয়েছে, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

রবিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) আবদুল মাবুদ জানিয়েছিলেন, বাসার ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।

তবে পুলিশ কমিশনারের দেওয়া হত্যাকাণ্ডের বিবরণের সঙ্গে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের বক্তব্যে কিছুটা ফারাক দেখা যায়। একই সঙ্গে দুজন মিলে কীভাবে চারজনকে হত্যা করল, তা নিয়েও নিহতদের স্বজনদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এসব বিষয় সামনে রেখে তদন্তভার ডিবিকে দেওয়া হয়েছে।

গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি অবসরে যান। নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকার পর মাছুয়াপাড়া এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। দোতলা বাড়িটির নিচতলার কাজ শেষ না হলেও প্রায় দুই থেকে তিন বছর ধরে তিনি পরিবার নিয়ে দোতলায় বসবাস করছিলেন।

অবসরের পর গণপতি চক্রবর্তী হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবেও রোগী দেখতেন।

Leave A Reply


Math Captcha
9 + = 14