ময়মনসিংহ নগরীতে এক ভেটেরিনারি চিকিৎসকের চেম্বারে ঢুকে তাকে জুতা দিয়ে মারধর, চেম্বার ভাঙচুর ও টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে আফরিন রশিদ সেঁজুতি (২৩) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে নগরীর মাসকান্দা এলাকায় নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শেবিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর সেঁজুতিকে রোববার বিকেলে ময়মনসিংহের আদালতে হাজির করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় নগরীর জেলা স্কুল এলাকায় ‘ডক্টরস পেট কেয়ার’ নামে একটি ভেটেরিনারি চেম্বারে এ ঘটনা ঘটে। ওই চেম্বারে বিড়ালের চিকিৎসার পাশাপাশি পোষা প্রাণীর বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করেন চিকিৎসক আশিকুর রহমান।
ঘটনার পরদিন আশিকুর রহমান ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় তালহাজুর রহমান প্রতীক, আফরিন রশিদ সেঁজুতি ও সাকিবুল হাসানসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়।
ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, এক নারী চেম্বারে ঢুকে জুতা খুলে চিকিৎসক আশিকুর রহমানকে তা দিয়ে মারধর করছেন। এ সময় তালহাজুর রহমান প্রতীককে পাশে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে দেখা যায়। তিনিও চিকিৎসকের ওপর হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মামলার এজাহার উদ্ধৃত করে পুলিশ জানায়, কিছুদিন ধরে আশিকুর রহমানের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় অভিযুক্তরা চেম্বারে গিয়ে ওই টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেন। চিকিৎসক এতে আপত্তি জানালে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা চেম্বারের সিসিটিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে আশিকুর রহমানকে লোহার রড দিয়ে মারধর করেন। এ সময় চেম্বারের কর্মচারী ইশান আহমেদ, তার স্ত্রী তাওহিয়া আক্তার এবং তালহাজুরের স্ত্রী সজনীন তাসনীন সিদ্দিকী চিকিৎসককে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর ও টেনেহিঁচড়ে নেওয়া হয়।
পরে চেম্বারের ক্যাশবাক্স থেকে ৩ লাখ টাকার বেশি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চেম্বারের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও মালামাল ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সেঁজুতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

