Friday, November 6

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশটির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ অব্যাহত রাখছে বাংলাদেশ। চীনসহ বিভিন্ন দেশের সহযোগিতায় এ চাপ আরও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়ানমারের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা নিয়ে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাংলাদেশ একমত নয় জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, এ বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত তাঁর সরকারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি বলেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করলেও তা ধীরগতিতে চলছে। বাংলাদেশ এ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

রোহিঙ্গাদের নিজস্ব পরিচয় রয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেই পরিচয় নিয়েই তাঁদের নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। মানবিক কারণে বাংলাদেশ তাঁদের আশ্রয় দিয়েছে এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসনই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

চীনের সহযোগিতায় চাপ বাড়ানোর চেষ্টা

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক চাপের বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী চীন সফরের সময় চীনের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

চীন মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, সব আলোচনা গণমাধ্যমে প্রকাশ করা না হলেও মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োজন—এ অবস্থান বাংলাদেশ সব সময়ই জানিয়ে আসছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আসা শুরু হলেও এখনো সংকটের সমাধান হয়নি। প্রথম তিন-চার বছরের মধ্যে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হলে পরিস্থিতি এতটা জটিল হতো না। সময়ের সঙ্গে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে এবং রোহিঙ্গা সংকটও ঘনীভূত হয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু কূটনৈতিক ভাষায় কথা বললে হবে না, বিষয়টিকে কার্যকর পদক্ষেপে রূপ দিতে হবে। আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। আন্তর্জাতিক আদালতের রায়সহ বিভিন্ন বিষয় কাজে লাগিয়ে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

একই সঙ্গে ভূরাজনৈতিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

সীমান্ত নিরাপত্তায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা

রোহিঙ্গা ইস্যুতে গঠিত জাতীয় কমিটিতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, বিষয়টি শুধু নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের নিয়ে নয়। স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও কমিটিতে রয়েছেন।

তবে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের কমিটিতে থাকা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কৌশল পরিবর্তন হয়েছে কি না—এ প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৌশলগত পরিবর্তন অবশ্যই আছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। পাশাপাশি আগের উদ্যোগগুলোও চলমান রয়েছে।

আল-কায়েদা নিয়ে নির্দিষ্ট তথ্য নেই

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আল-কায়েদার সেল গঠনের চেষ্টার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশের প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা উপাত্ত নেই।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে তিনি একমত। বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নিয়ে কাজ করছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাঁর কাছে এ বিষয়ে কোনো আপডেট নেই। সফর চূড়ান্ত হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হবে।

ভারতের পক্ষ থেকে মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যেন না যায়—এমন কোনো অনুরোধ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই।

Leave A Reply


Math Captcha
− 2 = 3