Friday, November 6

নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকাসহ তিন জেলায় বিশেষ ‘পিংক বাস’ সেবা চালু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। প্রাথমিকভাবে ১৪টি বাস দিয়ে শুরু হওয়া এ সেবা পর্যায়ক্রমে আরও সম্প্রসারণ করা হবে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপোতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেবার উদ্বোধন করেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, নারীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে এ সেবার পরিধি আরও বাড়ানো হবে। পর্যায়ক্রমে নতুন রুটে বাস চালুর পাশাপাশি বাসের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।

তিনি বলেন, শুধু বাস চালু করলেই হবে না, পুরো সেবাটিকে সময়ের সঙ্গে আরও উন্নত করতে হবে। নতুন এই উদ্যোগ যেন কয়েক মাস পর হারিয়ে না যায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

অপেক্ষা থেকে বাসে ওঠানামা—নিরাপত্তায় গুরুত্ব

নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাসে ওঠার আগের অপেক্ষার সময় থেকে শুরু করে বাসে ওঠা, চলাচল এবং নামা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে যাত্রীবান্ধব করার ওপর গুরুত্ব দেন শেখ রবিউল আলম।

তিনি বলেন, অপেক্ষার সময় অনেক নারী বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। বাসের ভেতরেও ব্যবস্থাপনার কারণে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। আবার বাস থেকে নামার সময়ও অনেক ক্ষেত্রে অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সেবার মান উন্নত করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। রাষ্ট্র বিনির্মাণ ও পরিবারের অর্থনীতিতে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নারীদের সক্ষমতাকে রাষ্ট্রের কাজে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে তাঁদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ঢাকায় ১০ রুটে ১০ বাস

বিআরটিসি জানিয়েছে, মোট ১৪টি বাস দিয়ে ‘পিংক বাস’ সেবা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার ১০টি রুটে ১০টি বাস, চট্টগ্রামে দুটি রুটে দুটি এবং বগুড়ায় দুটি রুটে দুটি বাস চলবে। ঢাকার ১০টি বাসের মধ্যে একটি একতলা এবং নয়টি দ্বিতল।

ঢাকার নির্ধারিত রুটগুলো হলো—নতুন বাজার (কোকা-কোলা)–মতিঝিল, তালতলা–মতিঝিল, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার–জিপিও, মিরপুর-১০–মতিঝিল, মিরপুর–মতিঝিল, মিরপুর-১২–মতিঝিল, মোহাম্মদপুর–মতিঝিল, আবদুল্লাহপুর–মতিঝিল ও গাজীপুর–এবিআর।

এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ–ঢাকা, বগুড়ার শেরপুর–মাটিডালি এবং চট্টগ্রামের কালুরঘাট–পতেঙ্গা রুটেও এ সেবা চালু হয়েছে।

২০০ ই-বাসের ১০০টি নারীদের জন্য

শেখ রবিউল আলম জানান, সরকার ২০০টি বৈদ্যুতিক বাস (ই-বাস) কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে ১০০টি বাস নারীদের জন্য বিভিন্ন রুটে পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব বাস যুক্ত হলে নারী বাসসেবার রুট ও সংখ্যা আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ই-বাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ঢাকায় মাল্টিমোডাল যোগাযোগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও এসব বাস কাজে আসবে।

ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য বিভাগেও নারী বাসসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

বিআরটিসির ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের তাগিদ

বিআরটিসির বর্তমান ব্যবস্থাপনা নিয়েও কথা বলেন শেখ রবিউল আলম। তিনি জানান, সংস্থাটি বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ২০০ বা তার বেশি বাস পরিচালনা করছে। বর্তমানে বিআরটিসি লোকসানে নেই, বরং ব্রেক-ইভেন অবস্থায় রয়েছে।

তবে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা ও সেবার মান আরও উন্নত করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নারীবাস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, বিআরটিসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave A Reply


Math Captcha
60 − = 51