Thursday, August 20

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে কান্নাকাটি ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানোর অভিযোগে ১৪ দিন বয়সী নবজাতক ছেলেকে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের প্লাস্টিকের ড্রামে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নবজাতকের মা ফাতেমা বেগমকে (১৯) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মজুমদারহাট সংলগ্ন বাজার বাড়ির সৌরভের ঘরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নবজাতক ওই বাড়ির সৌরভ হোসেনের ছেলে। ফাতেমা বেগম উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের শরীফ উল্যার মেয়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রেমের সম্পর্কের পর সৌরভ হোসেনের সঙ্গে ফাতেমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাঁদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল বলে স্থানীয়দের দাবি।

সোমবার সন্ধ্যার পর নবজাতককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা ফাতেমাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি প্রথমে দাবি করেন, পেছন থেকে তাঁকে মাথায় আঘাত করে কে বা কারা শিশুটিকে নিয়ে গেছে। পরে তিনি বলেন, জিনে শিশুটিকে নিয়ে গেছে।

ফাতেমার বক্তব্যে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হলে তাঁরা শিশুটিকে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে রাত ১০টার দিকে ঘরে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের একটি প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ফাতেমা সন্তানকে ড্রামের পানিতে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পুলিশের কাছে তিনি দাবি করেন, নবজাতক অতিরিক্ত কান্নাকাটি করত, ঘুমাত না এবং এতে তাঁর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটত। এ কারণে শিশুটিকে ড্রামের পানিতে ফেলে দেন বলে জানান তিনি।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, নবজাতককে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগে তার মাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, নবজাতকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো কারণ বা কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Leave A Reply


Math Captcha
− 3 = 3