Friday, November 6

বরগুনার পায়রা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার একদিন পর রাবেয়া আক্তার জুঁই (১৫) নামে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে জেলার তালতলী উপজেলার সাগর মোহনার তেতুলবাড়িয়ার চর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ্ আজিজ।

নিহত জুঁই রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা জনি চৌধুরীর মেয়ে। তাদের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার নরহা গ্রামে।

নদীর পাড়ে ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ

স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ৯ নম্বর এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের লতাকাটা খেয়াঘাট এলাকায় পায়রা নদীর তীরে হাঁটতে গিয়ে নিখোঁজ হয় জুঁই।

জানা গেছে, ঢাকার মিরপুরে জুঁইদের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া থাকেন জীবন মাহমুদ মাহফুজ। সেই সূত্রে মাহফুজের গ্রামের বাড়ি বরগুনায় বেড়াতে আসেন জুঁই, তার মা তাসলিমা বেগম ও জুঁইয়ের বান্ধবী মরিয়ম ইসলাম রিয়া।

রোববার সকালে বরগুনায় পৌঁছানোর পর তারা পাশের পায়রা নদীর তীরে ঘুরতে যান। একপর্যায়ে দুই বান্ধবী জড়িয়ে ধরে নদীতে পড়ে যায়। রিয়া সাঁতরে পাড়ে উঠতে পারলেও সাঁতার না জানা জুঁই জোয়ারের স্রোতে গভীর পানিতে তলিয়ে যায়।

খবর পেয়ে বরগুনা ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় থানা পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে রোববার দিনভর চেষ্টা চালিয়েও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

একদিন পর মিলল মরদেহ

নিখোঁজের পরদিন সোমবার বিকেলে সাগর মোহনার তেতুলবাড়িয়া চরে জুঁইয়ের ভাসমান মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

জুঁইয়ের মা তাসলিমা বেগম বলেন, ‘আমাদের বাড়িতে ভাড়া থাকেন জীবন মাহমুদ মাহফুজ। সেই সূত্রেই মাহফুজদের গ্রামের বাড়িতে আমি মেয়ে ও মেয়ের বান্ধবীকে নিয়ে বেড়াতে আসি।’

অন্যদিকে জীবন মাহমুদ মাহফুজ বলেন, জুঁই ও তার বান্ধবীকে নদীর পাড়ে যেতে একাধিকবার নিষেধ করা হয়েছিল। তারা সাঁতার জানত না। এরপরও নদীর পাড়ে যাওয়ার পরই দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে জানান তিনি।

একদিনের উদ্ধার অভিযানের পর জুঁইয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 53 = 61