Friday, November 6

খুলনার তেরখাদা থেকে নিখোঁজ হওয়া ১২ বছরের রায়হান ও ৮ বছরের রাফিকে রাজধানীর আগারগাঁও থেকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তারিক।

গত ১২ আগস্ট বুধবার নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় দুই ভাই রায়হান ও রাফি। সন্তানদের নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল পরিবারটি। পরে ঢাকার আগারগাঁওয়ে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে শিশু দুটির সন্ধান পাওয়া যায়।

সেখানে শিশু দুটিকে দেখতে পেয়ে নিরাপদে উদ্ধার করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম শিপন। পরে বিষয়টি ছাত্রদল নেতা তরিকুল ইসলাম তারিককে জানানো হলে তিনি দ্রুত তেরখাদা থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং শিশুদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করেন।

পরবর্তীতে শিশু দুটির বাবা বুলু মিয়াকে ঢাকায় আনা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার জিম্মায় রায়হান ও রাফিকে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

অতিরিক্ত বকাঝাকায় অভিমান করে বাড়ি ছাড়ে দুই ভাই

শিশু দুটির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরিবারের অতিরিক্ত বকাঝকা ও গালাগালে অভিমান করে তারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল।

বিষয়টি জানার পর তরিকুল ইসলাম শুধু শিশু দুটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্যেই দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি তাদের মা নিরুপা বেগম ও বাবা বুলু মিয়ার সঙ্গে কথা বলেন। সন্তানদের অতিরিক্ত শাসন, বকাঝকা ও কঠোর আচরণের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে তাদের সচেতন করেন।

একই সঙ্গে সন্তানদের সঙ্গে আরও সহনশীল, বন্ধুত্বপূর্ণ ও আন্তরিক আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি। পরে রায়হান ও রাফিসহ তাদের বাবাকে দুপুরের খাবার খাওয়ান এবং শিশুদের নিরাপদে খুলনায় বাড়ি ফেরার যাতায়াত খরচও বহন করেন।

‘শুধু উদ্ধার নয়, কেন বাড়ি থেকে বের হয়েছিল সেটিও বোঝার চেষ্টা করেছি’

ছাত্রদল নেতা মো. তরিকুল ইসলাম তারিক বলেন, ‘দুই শিশুকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমি স্বস্তি ও আনন্দ বোধ করছি। একজন মানুষ হিসেবে বিপদে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল।’

তিনি বলেন, ‘তাদের উদ্ধার করে শুধু পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়াই নয়, তারা কেন বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল সেটিও বোঝার চেষ্টা করেছি। শিশু দুটির সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, অতিরিক্ত বকাঝকা ও কঠোর আচরণে অভিমান করেই তারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল।’

তারিক আরও বলেন, ‘সন্তানকে শাসন করার প্রয়োজন আছে, তবে সেই শাসন যেন কখনো ভালোবাসা ও নিরাপত্তাবোধকে ছাপিয়ে না যায়। বাবা-মায়ের প্রতি আমার অনুরোধ, সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ, সহনশীল ও আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলুন। যেন কোনো কষ্ট বা অভিমান হলে তারা বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পরিবর্তে বাবা-মায়ের কাছেই নিজেদের কথা বলতে পারে।’

তিনি বলেন, শিশু দুটির নিরাপদে ফিরে আসাই ছিল মূল লক্ষ্য। তারা এখন পরিবারের কাছে ফিরেছে—এটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়।

পরিবারে ফিরেছে স্বস্তি

দুই সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবারটি তাদের ফিরে পাওয়ায় স্বস্তি ফিরে পেয়েছে। শিশু দুটির সন্ধান পাওয়া, নিরাপদে উদ্ধার এবং পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশুদের নিরাপত্তার পাশাপাশি পারিবারিক পরিবেশে ভালোবাসা, সহনশীলতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানদের সঙ্গে অতিরিক্ত কঠোর আচরণ যাতে তাদের মধ্যে অভিমান বা নিরাপত্তাহীনতা তৈরি না করে, সে বিষয়েও অভিভাবকদের সচেতন থাকা প্রয়োজন।

Leave A Reply


Math Captcha
54 − = 48