Friday, November 6

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষে এক শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা তার কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখার পর রোববার (১৬ আগস্ট) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে তাকে বের করে নিতে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম ও জিএস ইমামুল হাসানসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে জিএস ইমামুল হাসানের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। পরে আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং হল প্রাধ্যক্ষকে কার্যালয় থেকে বের করে নিতে রাতে সেখানে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আল মোজাদ্দেদী আলফেসানী, প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসরাফিল প্রাং এবং কয়েকজন সহকারী প্রক্টর। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তাদেরও প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

পরে দুই প্রো-ভিসি কার্যালয় থেকে বের হয়ে যান। এ সময় প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ের গেটে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের সঙ্গে হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম, জিএস ইমামুল হাসানসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, হঠাৎ ছাত্রদলের একটি মিছিল শিবিরবিরোধী স্লোগান দিতে দিতে প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ের দিকে আসে। মিছিল দেখে ভিপি আবু নাঈম ‘শহীদুল্লাহ হলের সন্ত্রাসীরা এখানে কী করছে?’ বলে মন্তব্য করেন। এরপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে থাকা ভিপি-জিএসসহ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে।

এতে অন্তত ছয়জন আহত হন। হামলার সময় ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল প্রাং ধাক্কা খেয়ে একটি পিলারের সঙ্গে পড়ে যান বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী তাকে আড়াল করে সেখান থেকে বের করে নিয়ে যান।

হামলার পর হল সংসদের জিএস ইমামুল হাসানকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ভিপি আবু নাঈমের গেঞ্জি ও পাঞ্জাবি ছিঁড়ে যায়। পরে আহতদের দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হল প্রাধ্যক্ষকে কার্যালয় থেকে বের করে নিয়ে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এদিকে, ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন উপস্থিত সাংবাদিকরা। তবে ঢাবি ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি তামি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের ভিডিও ধারণে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি।

তিনি দাবি করেন, অন্যান্য হল থেকে শিবিরের নেতাকর্মীরা সেখানে এসেছিলেন। পরে ভিপি-জিএসদের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে যান। তবে ছাত্রদলের নেতৃত্বে প্রাধ্যক্ষকে বের করে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা ভেতরে যাননি; হল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়েছিলেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ

ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইব্রাহিম বলেন, হলের শিক্ষার্থীরা প্রথমে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চেয়েছিলেন। তার দাবি, ফুটেজ দেখানো হলে প্রাধ্যক্ষ কীভাবে দরজা বন্ধ করে তাকে হেনস্তা করেছেন, তা স্পষ্ট হয়ে যেত। কিন্তু সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ২টা পেরিয়ে গেলেও ফুটেজ দেখানো হয়নি।

ইব্রাহিম বলেন, প্রথমে জানানো হয়েছিল—গণমাধ্যম বা অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীরা ফুটেজ দেখতে পারবেন না; শুধু তিনি, হল সংসদ এবং ডাকসুর কয়েকজন প্রতিনিধি তা দেখতে পারবেন। পরে শিক্ষকরা বারবার নিজেদের মধ্যে আলোচনা করার কথা বলে বিষয়টি পিছিয়ে দেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।

তার অভিযোগ, পরে ঘটনাটি ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের দ্বন্দ্বে রূপ নেয় এবং উভয় পক্ষই অন্যান্য হল থেকে নিজেদের লোকজন নিয়ে আসে। এর মধ্যে তার নিজের বিচারপ্রক্রিয়াই পিছিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

ইব্রাহিম আরও অভিযোগ করেন, ছাত্রদল তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এফএইচ হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবিদ হাসনাতের নেতৃত্বে কমিটির কয়েকজন সদস্য অভিযুক্ত প্রাধ্যক্ষকে নিরাপত্তা দিয়ে বের করে নিয়ে গেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এর আগে রোববার সন্ধ্যা থেকেই প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা তার কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। শিক্ষার্থীকে প্রাধ্যক্ষের কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ ও পরবর্তী সংঘর্ষের ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Leave A Reply


Math Captcha
59 − = 54