Friday, November 6

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী যে ছয় মাসের সময়সীমা দিয়েছেন, তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। একই সঙ্গে সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলের দেওয়া পরিকল্পনাগুলো বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা বলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।

হাসনাত বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা দেওয়ার জন্য ছয় মাসের আলটিমেটাম দিয়ে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। ‘আমরা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম এবং সমাধান পরিকল্পনা প্রস্তাব করছি’—বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী চ্যালেঞ্জ দেওয়ার আগেই জানতে পারতেন যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানে বিরোধী দলের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রয়েছে। এনসিপির আহ্বায়ক, সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি মেয়াদে ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানান হাসনাত।

তিনি বলেন, প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ৩০ দিনের জন্য পাঁচটি, ৬ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য ছয়টি এবং দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য চারটি পদক্ষেপ রয়েছে। এসব প্রস্তাবে ভর্তুকি নীতি, ফুয়েল প্ল্যান, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান ও ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যানের বিষয়ও রয়েছে বলে জানান তিনি।

সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন

সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর সংখ্যা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর টিমের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত।

তিনি দাবি করেন, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী মিলিয়ে ৬২ জনের সভাসদ থাকলেও তাঁদের কেউ নাগরিক মতামত বা বিরোধী দলের প্রস্তাব পড়ে দেখেননি। এ পরিস্থিতিকে তিনি সরকারের টিমের সক্ষমতা ও যোগ্যতার প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেন।

বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিশেষ সংসদীয় অধিবেশন আয়োজনের অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

‘ফুয়েল ও কন্টিনজেন্সি প্ল্যান নেই’

প্রশাসনে গত ছয় মাসে ব্যাপক দলীয় পদায়নের কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতা বা ‘ইনস্টিটিউশনাল মেমরি’ নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ করেন হাসনাত।

এর ফলে ফুয়েল প্ল্যান, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান এবং ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

মহেশখালীর এফএসআরইউতে অগ্নিকাণ্ডের পর রক্ষণাবেক্ষণে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সে বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করারও সমালোচনা করেন তিনি।

মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি বাস্তবায়নের দাবি

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ‘মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন হাসনাত।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ নীতির আওতায় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে সরাসরি বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবেন। ক্রেতা ও বিক্রেতা নিজেদের মধ্যে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করবে এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিষয়টি তদারক করবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডেও সরবরাহ করা যাবে বলে জানান তিনি।

হাসনাতের দাবি, এ নীতি বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন নেই; শুধু এসএলএ ফরম্যাট ও হুইলিং চার্জ চূড়ান্ত করলেই কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব।

‘ঘড়িটা বিরোধী দলের নয়, সরকারের’

প্রধানমন্ত্রীর ছয় মাসের সময়সীমা প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, সমাধানের প্রস্তাব বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আগেই দেওয়া হয়েছে। এখন ছয় মাসের হিসাব সরকারের।

তিনি বলেন, ছয় মাসের মধ্যে সংকট সমাধান করা না গেলে বিষয়টি শুধু নীতিগত ব্যর্থতা নয়, সরকারের সক্ষমতার ব্যর্থতা হিসেবেও বিবেচিত হবে।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে চ্যালেঞ্জ না দিয়ে সরকারের কাজের জন্য জবাবদিহি করবেন—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

পোস্টের শেষ দিকে হাসনাত বলেন, ‘সমাধান আমাদের হাতে আছে। কিন্তু ক্ষমতা আপনার হাতে। ছয় মাস পর জনগণ জানতে চাইবে, দুটির মধ্যে কোনটির অভাবে দেশ অন্ধকারে ছিল।’

Leave A Reply


Math Captcha
48 − = 42