Friday, November 6

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ছিল সম্পূর্ণ জনগণের আন্দোলন এবং এর সাফল্যের কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়, বরং দেশের সর্বস্তরের জনগণের। তিনি বলেন, জনগণ পরিবর্তন চেয়েছিল বলেই আন্দোলন সফল হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (কেআইবি)-তে ‘গণতন্ত্র আদায়ে ১৭ বছরের অনিবার সংগ্রাম ও রক্তঝরা জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর ধরে বিএনপিসহ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে মাঠে ছিল এবং কখনো জনগণকে একা ফেলে যায়নি। তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনের সফলতার ক্রেডিট এই দেশের সর্বস্তরের জনগণের। এটি কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের অর্জন নয়।”

সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এখন সময় আন্দোলন-সংগ্রামের অধ্যায় পেরিয়ে দেশ পুনর্গঠন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার।

রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির প্রস্তাবিত এই রূপরেখা এখন জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত কর্মপরিকল্পনায় পরিণত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও বিভাজিত প্রশাসনের মধ্যেও জনগণের দুর্ভোগ কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

জ্বালানি খাতের বিষয়ে তিনি জানান, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির আলোচনা চলছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার পেট্রোনাসের সঙ্গে এলএনজি আমদানির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন অকার্যকর থাকা বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে দুটি নতুন রিগ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে এবং বিটিএমসির বন্ধ কারখানাগুলো চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা এবং দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে ডায়ালিসিস ইউনিট চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে দেশব্যাপী ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থাকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ধারণায় সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ শান্তি, উন্নত শিক্ষা, মানসম্মত চিকিৎসা, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং গণতান্ত্রিক অধিকার চায়। এসব প্রত্যাশা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং দেশের শান্তি, উন্নয়ন ও গণতন্ত্র সুসংহত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

Leave A Reply


Math Captcha
40 − = 39