Friday, November 6

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় সাপের কামড়ে এক গৃহবধূর মৃত্যুর পর তাঁকে জীবিত করার আশায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূর থেকে সাপুড়ে এনে ঝাড়-ফুঁক করানোর ঘটনা ঘটেছে। তবে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর সাপুড়েও জানান, বিষধর সাপের দংশনে তাঁর মৃত্যু হয়েছে এবং তাঁকে বাঁচানো সম্ভব নয়।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

মৃত গৃহবধূর নাম তাসলিম বেগম (২৫)। তিনি হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নের খাঁন বাড়ির বাসিন্দা ও ইউসুফ খাঁনের স্ত্রী। তাঁদের দুটি ছোট ছেলেসন্তান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে তাসলিম বেগম বসতঘরের পাশের টয়লেটে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে তাঁকে একটি সাপ দংশন করে। তাঁর চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালে চিকিৎসকরা প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে অ্যান্টিভেনম প্রদান করেন। তবে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার প্রায় ২০ মিনিট পর তাঁর মৃত্যু হয়।

মৃত তাসলিমার স্বামী ইউসুফ খাঁন বলেন, “চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করার পর আমরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসি। পরে স্থানীয় লোকজনের পরামর্শে তাঁকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে একজন সাপুড়েকে আনা হয়।”

পরিবারের সদস্যরা জানান, রাতের বেলায় কুমিল্লা থেকে একজন সাপুড়েকে ডেকে আনা হয়। তিনি রাত ৩টা থেকে ভোর পর্যন্ত ঝাড়-ফুঁক করেন। পরে তিনি জানান, বিষধর সাপের দংশনের কারণে শরীরে বিষ ছড়িয়ে পড়েছে এবং তাসলিমাকে আর বাঁচানো সম্ভব নয়।

তাসলিমার দেবর মোবারক খাঁন জানান, সাপুড়েকে ঝাড়-ফুঁকের জন্য তিন হাজার টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাসলিম বেগমকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

উল্লেখ্য, সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণই সবচেয়ে কার্যকর ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। চিকিৎসকদের মতে, ঝাড়-ফুঁক বা কুসংস্কারভিত্তিক চিকিৎসার ওপর নির্ভর

Leave A Reply


Math Captcha
47 − 37 =