Friday, November 6

ঢাকা: রাজধানীর আদাবরে মেকআপ আর্টিস্ট এক তরুণীর (২৪) লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আলোকচিত্রী নামীম আশরাফসহ (৩৭) তাঁর বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অপর একটি মামলায় নামীম কারাগারে বন্দী আছেন।

গত সোমবার (২২ জুন) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এ নিহত তরুণীর বড় বোন বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন—নামীমের বাবা মো. আশরাফউদ্দিন (৫৬) ও মা শাহনাজ বেগম (৫০)। ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মনিরুজ্জামান বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ ও প্রেক্ষাপট

মামলার আরজিতে বলা হয়, দুই বছর আগে একটি শুটিংয়ের কাজে নামীম আশরাফের সঙ্গে পরিচয় হয় আদাবরের মোহাম্মদপুর এলাকার ওই তরুণীর। পরবর্তীতে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পারিবারিকভাবে বিয়ের আলোচনা চলছিল। অভিযোগ করা হয়, নামীম বিয়ের আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে তা বাস্তবায়ন না করে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন, যা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকবার বিরোধের সৃষ্টি হয়।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১০ জুন নামীম আদাবরের শেখেরটেকে তাঁর স্টুডিওতে ওই তরুণীকে ডেকে নেন। সেখানে তাঁকে পরিবারের সদস্যদের কাছে ‘বান্ধবীর বাসায় আছেন’ বলতে বাধ্য করা হয়। এরপর ১০ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত স্টুডিওতে আটকে রেখে তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ ও পরবর্তীতে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পূর্বের মামলা ও পুলিশের বক্তব্য

এর আগে, গত ১৪ জুন দুপুরে আদাবরের স্টুডিও থেকে ওই তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই নিহত তরুণীর বড় ভাই বাদী হয়ে আদাবর থানায় নামীম আশরাফকে একমাত্র আসামি করে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। ১৫ জুন নামীমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে আদাবর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুলতানুর রহমান জানান, ১৪ জুন বেলা আড়াইটার দিকে খবর পেয়ে তাঁরা স্টুডিও থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধার করেন। তখন নামীম ও তাঁর এক বান্ধবী দাবি করেছিলেন—দুপুরে স্টুডিওর দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দরজা ভাঙা হয়। ভেতরে সিলিংয়ের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় তরুণীকে ঝুলতে দেখে নিচে নামানো হলেও ততক্ষণে তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়।

পুলিশ কর্মকর্তা সুলতানুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে গলায় দাগ ছাড়া তরুণীর শরীরে কোনো আঘাত বা নির্যাতনের চিহ্ন দেখা যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

পরিবারের অসন্তোষ

তবে প্রথম থেকেই পুলিশের প্রাথমিক ধারণার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে আসছেন নিহতের পরিবার। ট্রাইব্যুনালে নতুন মামলা দায়ের প্রসঙ্গে নিহত তরুণীর বড় বোন জানান, ১০ জুন বাসা থেকে বের হওয়ার পর মাঝখানের দুই দিন ফোনে বোনটি জানিয়েছিল সে বান্ধবীর বাসায় আছে। ১৪ জুন খবর পেয়ে স্টুডিওতে গিয়ে তাঁরা বোনকে মৃত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর আদাবর থানায় মামলা করা হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। বোনকে আটকে রেখে নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার বিচার পেতেই তাঁরা পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

Leave A Reply


Math Captcha
37 + = 41