Saturday, November 7

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় বিয়ের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে চার সন্তানের জনক ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বাড়িতে আমরণ অনশনে বসেছেন ২২ বছর বয়সী এক তরুণী। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাক ওরফে রেজু (৬৫) দোয়ারাবাজার উপজেলার বোগলা ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে। ভুক্তভোগী সুমাইয়া আক্তার (২২) গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার উত্তর শ্রীপুর (চাপড়া) গ্রামের ছামছুল হকের মেয়ে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঢাকার মাওনা এলাকার একটি কাঁচামালের আড়তে কাজের সূত্রে রাজ্জাকের সঙ্গে সুমাইয়ার পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে সম্পর্কের মধ্যে জড়িয়ে ফেলেন রাজ্জাক বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৪ জুলাই বিয়ের কথা বলে সুমাইয়াকে মাওনা থেকে দোয়ারাবাজারে নিয়ে আসেন রাজ্জাক। পরে সুনামগঞ্জ শহরের একটি আবাসিক হোটেলে বিয়ের প্রস্তুতির কথা বলে দুদিন অবস্থান করেন। এরপর নানা অজুহাতে সুমাইয়াকে ঢাকায় ফিরিয়ে দেন।

এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে সুমাইয়ার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে আর গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে সুমাইয়া বিষয়টি রাজ্জাককে জানালে তিনি তাকে আবার দোয়ারাবাজারে আসতে বলেন। তাঁর কথায় বিশ্বাস করে গত শনিবার (২৫ জুলাই) সুমাইয়া তাঁর দুই শিশু সন্তান—আব্দুল্লাহ আল মামুন (৭) ও আশা মনি (৫)-কে রেখে দোয়ারাবাজারে আসেন।

তবে এলাকায় পৌঁছানোর পর রাজ্জাক মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ করেন সুমাইয়া। নিরুপায় হয়ে তিনি অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিনি রাজ্জাকের বসতবাড়িতেই অবস্থান করছিলেন।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাকের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তিনি আত্মগোপনে থাকায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

Leave A Reply


Math Captcha
− 6 = 3