Saturday, November 7

নিজস্ব প্রতিবেদক |

আদালতে নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা তুলে ধরে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শের জন্য বিশেষ সময় চেয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক। তিনি জানিয়েছেন, ঘাড়ে আঘাতজনিত কারণে চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী তাকে হেলমেট না পরানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে চলমান বিপুল সংখ্যক মামলার কারণে আইনজীবীদের সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে কথা বলার সুযোগ প্রয়োজন বলেও আদালতকে অবহিত করেন।

রোববার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হলে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক মো. হোসেন হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জুনাইদ আহ্মেদ পলকসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে এদিন শুনানির তারিখ নির্ধারিত ছিল। এ মামলায় সকালে কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে আনা হয় পলককে।

আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের বক্তব্য উপস্থাপনকালে পলক বলেন, “আমার ঘাড়ে আঘাতের কারণে চিকিৎসক আমাকে হেলমেট না পরানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আমি অসুস্থ। আমার বিরুদ্ধে ৯৮টি মামলা রয়েছে। আমি ৯৯ দিন রিমান্ডে ছিলাম। বর্তমানে তিনটি মামলার বিচার চলছে এবং আইসিটিতে আমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। আমার আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য বিশেষ সময় প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, “১৫ দিনে মাত্র আধা ঘণ্টা পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাই। আইনজীবীদের সঙ্গে প্রতি দুই সপ্তাহে অন্তত দুই দিন তিন ঘণ্টা করে বিশেষভাবে সাক্ষাতের অনুমতি প্রার্থনা করছি।”

পলকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফারজানা ইয়াসমিন আদালতের কাছে একই আবেদন জানান। শুনানি শেষে ঢাকার বিশেষ জজ-৪ আদালতের বিচারক রবিউল আলম কারাবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ১৫ দিন পরপর পরিবার বা আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ থাকে। তবে পরিবার সাক্ষাৎ করতে গেলে আইনজীবীদের পক্ষে দেখা করা সম্ভব হয় না। যেহেতু পলকের বিরুদ্ধে অধিকাংশ মামলাই অভিযোগ গঠন পর্যায়ে রয়েছে, তাই মামলাগুলো নিয়ে বিস্তারিত আইনি পরামর্শের জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।

মোহাম্মদপুরের ট্রাকচালক হত্যা মামলার পটভূমি

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় মালবাহী ট্রাকচালক মো. হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। একই ঘটনায় আহত হন সাজ্জাদ ও শাহিন নামে আরও দুই ব্যক্তি।

পরবর্তীতে নিহত হোসেনের মা মোসা. রীনা বেগম গত বছরের ৩১ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আকরামুজ্জামান ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার ৩৪ আসামির মধ্যে বর্তমানে কারাগারে থাকা চারজনকে রোববার আদালতে হাজির করা হয়। এ ছাড়া জামিনে থাকা আটজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন। বর্তমানে এ মামলায় জুনাইদ আহ্মেদ পলক ছাড়াও সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, সাদেক খান ও ফুরকান হোসেন কারাগারে রয়েছেন।

আদালতে ‘ভি’ চিহ্ন প্রদর্শন

রোববার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে পলককে আদালতে হাজির করে হাজতখানায় রাখা হয়। পরে বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে তাকে আদালতকক্ষে নেওয়ার সময় তিনি বারবার হাত উঁচু করে ‘ভি’ (V) চিহ্ন প্রদর্শন করেন।

এ বিষয়ে তার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, সাধারণত ‘ভি’ চিহ্নকে বিজয়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে পলক ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন, সে বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়নি। তার ধারণা, আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সমর্থকদের উৎসাহ দিতেই তিনি এ প্রতীক ব্যবহার করে থাকতে পারেন।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, আদালতে বিভিন্ন ধরনের অঙ্গভঙ্গি করা পলকের একটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তার ভাষায়, “এভাবে তিনি জনমত তৈরির চেষ্টা করেন। আদালতে আসামিদের এ ধরনের আচরণ শোভনীয় নয়।”

পলককে দেখতে এসে চারজন আটক

এদিকে, জুনাইদ আহ্মেদ পলককে দেখতে আদালত প্রাঙ্গণে শতাধিক সমর্থক উপস্থিত হন। আদালতের কার্যক্রম শেষে তাকে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় কোতোয়ালি থানা পুলিশ চারজনকে আটক করে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন মোস্তাকিম হোসেন, নূর আলম, আনোয়ার হোসেন ও রুহুল আমিন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কোতোয়ালি জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. নাজিম উদ্দীন আল আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 41 = 44