Saturday, November 7

সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ভিডিওটি সোমবার রাত থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার হতে থাকে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি প্রথমে গণমাধ্যমকে জানান, পরে বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ১ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ভিডিওটি তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগমের সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তের এবং এটি পরিকল্পিতভাবে ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৩ জুলাই তিনি তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগমকে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে অবস্থানকালে তাঁর গাড়িচালক এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুল্লাহ বাইরে যাওয়ার পর কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এমপির দাবি, ওই ব্যক্তিরা তাঁদের জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করেন এবং পরবর্তীতে তাঁর ব্যবহৃত ভাড়া করা গাড়িটি আটকে রেখে আরও কয়েক লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

গাজী নজরুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে তা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক হিসেবে প্রচার করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং তাঁর প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে মরিয়ম বেগমের সঙ্গে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন হয়। তাই ভিডিওতে থাকা নারী তাঁর বৈধ স্ত্রী এবং ভিডিওকে কেন্দ্র করে ছড়ানো বিভিন্ন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তিনি দাবি করেন।

এ ঘটনায় তাঁর সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নৈতিক চরিত্র ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টার অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গাজী নজরুল ইসলাম।

অন্যদিকে, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, তাঁদের ধারণা ভিডিওটি ঢাকার একটি বাসার সিসিটিভি ফুটেজ থেকে ফাঁস করা হয়েছে। তবে এ দাবির স্বাধীন বা আনুষ্ঠানিক কোনো যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।

Leave A Reply


Math Captcha
1 + 4 =