Saturday, November 7

দেশের বিভিন্ন স্থানে বাউল, ফকির ও সন্ন্যাসীদের ওপর হামলা এবং মাজার ও খানকায় আক্রমণের অভিযোগ তদন্ত করে ৬০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সম্প্রতি প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ আদেশে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর অতিরিক্ত মহাপরিদর্শককে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে বাউল, ফকির ও সন্ন্যাসীদের সাংবিধানিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের ব্যর্থতাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। স্বরাষ্ট্রসচিব, ধর্মসচিব, সংস্কৃতিসচিব, আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২১ জুন এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

রিট আবেদনে বলা হয়, বাউল, ফকির ও সন্ন্যাসীদের ওপর হামলা শুধু আখড়া ভাঙচুর বা গান নিষিদ্ধের ফতোয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; অনেকের চুল ও জটা জোরপূর্বক কেটে দিয়ে তাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাস, মানবিক মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।

আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, এসব ঘটনার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা সহিংসতা ও ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক নিপীড়নকে উৎসাহিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এমন নির্যাতনকে উসকে দেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা শিরীন পারভীন হক, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, অধ্যাপক আমেনা মহসিন, পীর হাসান শাহ সুরেশ্বরী দীপু নূরী, অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন, গবেষক আলতাফ পারভেজ ও সংগীতশিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ানসহ কয়েকজন সচেতন নাগরিকের পক্ষে ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া রিটটি দায়ের করেন।

রিটে দাবি করা হয়েছে, এসব ঘটনা এবং তা প্রতিরোধে রাষ্ট্রের নিষ্ক্রিয়তা সংবিধানে নিশ্চিত করা আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণ থেকে সুরক্ষা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ধর্ম পালনের অধিকারের পরিপন্থী।

Leave A Reply


Math Captcha
2 + 3 =