Saturday, November 7

ফিচার ডেস্ক: দেখতে কাঁটাময়, আকারে বিশাল, গন্ধে তীব্র—তবু স্বাদে অতুলনীয়। কাঁঠাল এমন একটি ফল, যাকে কেউ ভীষণ ভালোবাসেন, আবার কেউ এর গন্ধের কারণেই এড়িয়ে চলেন। তবে রূপের চেয়ে গুণেই যে কাঁঠালের পরিচয়, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল শুধু একটি মৌসুমি ফল নয়; এটি দেশের খাদ্যসংস্কৃতি, গ্রামীণ জীবন ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কাঁচা কাঁঠাল বা এঁচোড় দিয়ে তৈরি তরকারিকে অনেকেই ‘গরিবের মাংস’ বলে থাকেন। কারণ, এর আঁশযুক্ত গঠন অনেকটা মাংসের মতো এবং এটি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ।

অন্যদিকে পাকা কাঁঠাল তার মিষ্টি স্বাদ ও অনন্য সুবাসের জন্য সুপরিচিত। দেশীয় ফলগুলোর মধ্যে কাঁঠালে তুলনামূলক বেশি প্রোটিন রয়েছে। পাশাপাশি এতে রয়েছে খাদ্যআঁশ, ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান, যা মানবদেহের জন্য উপকারী।

বর্তমানে কাঁঠালের ব্যবহার শুধু ফল বা তরকারিতেই সীমাবদ্ধ নেই। কাঁঠাল দিয়ে এখন তৈরি হচ্ছে বিরিয়ানি, বার্গার, কাবাব, কাটলেট, চিপস, পাকোড়া, ললিপপ, শাশলিক, কেক, পেস্ট্রি, হালুয়া, নকশিপিঠা, পাটিসাপটা, রুটিসহ নানা ধরনের উদ্ভাবনী খাবার। এসব উদ্যোগ জাতীয় ফলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকেও নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

উৎপাদনের দিক থেকেও বাংলাদেশ বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কাঁঠাল উৎপাদনকারী দেশ বাংলাদেশ; প্রথম স্থানে রয়েছে ভারত। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে প্রায় ১৮ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন কাঁঠাল উৎপাদিত হয়েছে।

কৃষিবিদদের মতে, সহজলভ্যতা, জনপ্রিয়তা এবং দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীর সম্পর্কের কারণেই কাঁঠালকে বাংলাদেশের জাতীয় ফল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। শুধু বাংলাদেশই নয়, শ্রীলঙ্কারও জাতীয় ফল কাঁঠাল। ভারতের কেরালা ও তামিলনাড়ু রাজ্যেরও এটি রাজ্যফল।

আজ, ৪ জুলাই পালিত হচ্ছে বিশ্ব কাঁঠাল দিবস। ২০১৬ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এর উদ্দেশ্য কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার, পুষ্টিগুণ এবং উদ্ভিদভিত্তিক খাদ্য হিসেবে এর সম্ভাবনাকে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরা।

জাতীয় ফল হিসেবে কাঁঠাল শুধু আমাদের রসনাতৃপ্তির উৎস নয়, এটি কৃষি, পুষ্টি, অর্থনীতি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। তাই বিশ্ব কাঁঠাল দিবসে জাতীয় এই ফলকে নতুনভাবে জানার এবং এর সম্ভাবনাকে আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave A Reply


Math Captcha
+ 64 = 65